হবিগঞ্জ ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চুনারুঘাটে চন্ডি চা বাগানের বাংলোতে রাত্রিযাপন করবেন মির্জা ফখরুল Logo গরীবের ডাক্তার ধীরেন্দ্রকে নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করলেন শহিদুল ইসলাম শামীম Logo চুনারুঘাটের নরপতি গ্রামের গরিবের ডাক্তার ধীরেন্দ্র আর নেই Logo পাথর ফেলে রাস্তা দখল, ভোগান্তিতে চুনারুঘাট–শায়েস্তাগঞ্জের যাত্রীরা, নজর নেই সংশ্লিষ্টদের Logo চুনারুঘাটে খোয়াই নদীর জরাজীর্ণ বেইলি সেতু: জনদুর্ভোগের অন্য নাম, এমপির দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন প্রবাসী বাবুল Logo মাধবপুরে তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত, তেল লুটপাট করতে স্থানীয়দের ভিড় Logo হবিগঞ্জ-শায়েস্তাগঞ্জ সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণে ডিও লেটার, উন্নয়নে গতি আনছেন হুইপ জিকে গউছ Logo ​নর্থ লন্ডনে ‘বাংলার সুর ইউকে’-এর উদ্যোগে ঈদ উদযাপন ও সংবর্ধনা Logo চুনারুঘাট শিক্ষা ট্রাস্টের জন্য তহবিল গঠন: প্রতিষ্ঠাতা দাতা হওয়ার আহ্বান Logo চুনারুঘাট শহরে পাবলিক টয়লেট সংকট: প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করলেন প্রবাসী সমাজসেবক বাবুল

ভাঙ্গা ঘরে রোদ-বৃষ্টিতে কষ্টে দিন কাটছে মাধবপুরে শাহানা বেগমের পরিবার

ভাঙ্গা ঘরে কষ্টে দিন কাটছে মাধবপুরে শাহানা বেগম পরিবারের। 

ঘরের চালের টিনের ফোটো দিয়ে বৃষ্টির দিনে মেঝেতে পানি পড়ে। বাশ বেতের মাটির বেড়া ভেঙ্গে হেলে পড়েছে। বেড়ার ফাক ফোকর দিয়ে এখন প্রতিনিয়তই ঠান্ডা বাতাস আসা যাওয়া করে ঘরের ভেতরে। ঘরটিও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় ধসে পড়ে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এই ভাঙ্গা ঘরটিতে অসুস্থ স্বামী ও ৩মেয়ে সহ পরিবারের ৫ জন সদস্য বসবাস করে আসছে।

মাটিতে হাস-মুরগিসহ কোনোরকমে গাদাগাদি করে থাকছেন হবিগঞ্জে মাধবপুরে পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে বাসিন্দা অসহায় শাহানা বেগম ও তার পরিবারের সদস্যরা। স্বামী ও তিন মেয়েকে নিয়ে থাকছেন এক চালার একটা ভাঙ্গা ঘরে। আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে মাথাগোঁজার ঠাঁই একমাত্র এই ঘরটি মেরামত করতে পারছেন না তিনি। নতুন ঘর নির্মাণের সামর্থ্যও নেই তার। নিরুপায় হয়েই ভাঙ্গা ঘরে রোদ বৃষ্টি ঠান্ডায় কষ্টে দিন কাটছে এই পরিবারটির।

অসুস্থ হওয়ায় কোনো ধরনের কাজ করতে পারেন না উনার স্বামী নানু মিয়া।নানু মিয়া টাকার অভাবে চিকিৎসাও করাতে পারেননি। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এখনোব্দি অসুস্থতা নিয়ে ভাঙ্গা ঘরে বসেই বেকার সময় কাটছে তার। তিন মেয়ে সন্তানের বিয়ে খরচসহ সাংসারিক খরচ চালানো ও স্বামীর চিকিৎসা খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি। শাহানা বেগম জানান, নিজেই খেতে পারিনা। সন্তানদেরকেও খাওয়াতে পারিনা। স্বামীর চিকিৎসা খরচ চালাবো কিভা‌বে আর ভাঙ্গা ঘর মেরামতইবা করব কিভাবে? আল্লাহ ছাড়া আমার আর কেউ নাই। ভাগ্যে যা আছে তাই হবে।

তার স্বামী নানু মিয়া জানান, আমি অসুস্থ মানুষ, সারাদিন পরে থাকি বিছানায়, মানুষের সাহায্য যা পাই তা দিয়ে কোনো রকমে খেয়ে না খেয়ে আছি। নিজে ও আমার স্ত্রী সন্তানদের মুখে খাবার দিতে পারিনা। ঘরে থাকার জায়গা নেই। ভাঙ্গা ঘর মেরামত করাও সম্ভব হচ্ছেননা। অন্তত মাথাগোঁজার ঠাঁই টুকু পেলে খেয়ে না খেয়ে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বাকিদিনগুলো কাটিয়ে দিতে পারতাম।

প্রতিবেশী মোঃ জহির জানান, শাহানা বেগম ও তার পরিবার একদম অসহায় অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। সরকার পরিবারটি কে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে দিতে পারলে অসহায় এই পরিবারটি অন্তত মাথাগোঁজার ঠাঁই পেতো। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিসহ সমাজের সকল সুহৃদয়বান ব্যক্তিদেরকে এই পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানাই।

স্থানীয় কাউন্সিলর আফজাল পাঠান জানান, পরিবারটির একদম গরীব ও অসহায়। আমি তাদেরকে সরকারের দেওয়া বিভিন্ন সাহায্য করে যাচ্ছি । এছাড়াও তাদের খোঁজখবর নিচ্ছি। সরকারি ভাবে এই অসহায় পরিবারটিকে একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার দাবি জানাই।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

হ্যালো, আমি খন্দকার আলাউদ্দিন, আপনাদের চার পাশের সংবাদ দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করুন।
জনপ্রিয় সংবাদ

চুনারুঘাটে চন্ডি চা বাগানের বাংলোতে রাত্রিযাপন করবেন মির্জা ফখরুল

ভাঙ্গা ঘরে রোদ-বৃষ্টিতে কষ্টে দিন কাটছে মাধবপুরে শাহানা বেগমের পরিবার

আপডেট সময় ০১:৩১:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ এপ্রিল ২০২২

ভাঙ্গা ঘরে কষ্টে দিন কাটছে মাধবপুরে শাহানা বেগম পরিবারের। 

ঘরের চালের টিনের ফোটো দিয়ে বৃষ্টির দিনে মেঝেতে পানি পড়ে। বাশ বেতের মাটির বেড়া ভেঙ্গে হেলে পড়েছে। বেড়ার ফাক ফোকর দিয়ে এখন প্রতিনিয়তই ঠান্ডা বাতাস আসা যাওয়া করে ঘরের ভেতরে। ঘরটিও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় ধসে পড়ে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এই ভাঙ্গা ঘরটিতে অসুস্থ স্বামী ও ৩মেয়ে সহ পরিবারের ৫ জন সদস্য বসবাস করে আসছে।

মাটিতে হাস-মুরগিসহ কোনোরকমে গাদাগাদি করে থাকছেন হবিগঞ্জে মাধবপুরে পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে বাসিন্দা অসহায় শাহানা বেগম ও তার পরিবারের সদস্যরা। স্বামী ও তিন মেয়েকে নিয়ে থাকছেন এক চালার একটা ভাঙ্গা ঘরে। আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে মাথাগোঁজার ঠাঁই একমাত্র এই ঘরটি মেরামত করতে পারছেন না তিনি। নতুন ঘর নির্মাণের সামর্থ্যও নেই তার। নিরুপায় হয়েই ভাঙ্গা ঘরে রোদ বৃষ্টি ঠান্ডায় কষ্টে দিন কাটছে এই পরিবারটির।

অসুস্থ হওয়ায় কোনো ধরনের কাজ করতে পারেন না উনার স্বামী নানু মিয়া।নানু মিয়া টাকার অভাবে চিকিৎসাও করাতে পারেননি। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এখনোব্দি অসুস্থতা নিয়ে ভাঙ্গা ঘরে বসেই বেকার সময় কাটছে তার। তিন মেয়ে সন্তানের বিয়ে খরচসহ সাংসারিক খরচ চালানো ও স্বামীর চিকিৎসা খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি। শাহানা বেগম জানান, নিজেই খেতে পারিনা। সন্তানদেরকেও খাওয়াতে পারিনা। স্বামীর চিকিৎসা খরচ চালাবো কিভা‌বে আর ভাঙ্গা ঘর মেরামতইবা করব কিভাবে? আল্লাহ ছাড়া আমার আর কেউ নাই। ভাগ্যে যা আছে তাই হবে।

তার স্বামী নানু মিয়া জানান, আমি অসুস্থ মানুষ, সারাদিন পরে থাকি বিছানায়, মানুষের সাহায্য যা পাই তা দিয়ে কোনো রকমে খেয়ে না খেয়ে আছি। নিজে ও আমার স্ত্রী সন্তানদের মুখে খাবার দিতে পারিনা। ঘরে থাকার জায়গা নেই। ভাঙ্গা ঘর মেরামত করাও সম্ভব হচ্ছেননা। অন্তত মাথাগোঁজার ঠাঁই টুকু পেলে খেয়ে না খেয়ে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বাকিদিনগুলো কাটিয়ে দিতে পারতাম।

প্রতিবেশী মোঃ জহির জানান, শাহানা বেগম ও তার পরিবার একদম অসহায় অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। সরকার পরিবারটি কে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে দিতে পারলে অসহায় এই পরিবারটি অন্তত মাথাগোঁজার ঠাঁই পেতো। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিসহ সমাজের সকল সুহৃদয়বান ব্যক্তিদেরকে এই পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানাই।

স্থানীয় কাউন্সিলর আফজাল পাঠান জানান, পরিবারটির একদম গরীব ও অসহায়। আমি তাদেরকে সরকারের দেওয়া বিভিন্ন সাহায্য করে যাচ্ছি । এছাড়াও তাদের খোঁজখবর নিচ্ছি। সরকারি ভাবে এই অসহায় পরিবারটিকে একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার দাবি জানাই।