হবিগঞ্জ ০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ২২ দিন অন্ধকারে থাকার পর ব্যারিস্টার সুমনের সহযোগিতায় বিদ্যুৎ সংযোগ পেল ৩৪ টি পরিবার Logo মাধবপুরে আগুনে পুড়ে ছাই হলো মিলনের বেঁচে থাকার অবলম্বন Logo চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাচনে ১৭ প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র দাখিল Logo সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন Logo বিদ্যুৎপৃষ্ঠে নিহতের পরিবারের পাশে ব্যারিস্টার সুমন-এমপি Logo টেকনাফের ব্যাবসায়ী ৫শ’ পিছ ইয়াবাসহ চুনারুঘাটে গ্রেপ্তার Logo চুনারুঘাটে তীব্র দাবদাহে সুপেয় পানি ও খাবার স্যালাইন বিতরণ Logo শেখ হাসিনার আধুনিক চিন্তা ধারায় বদলে গেল কৃষিখাত, ব্যারিস্টার সুমন Logo কথায় কথায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক তাদের কাম কি? মানুষের টাকা মেরে দেয়া, ব্যারিস্টার সুমন Logo বাহুবলে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন, জরিমানা ৫০ হাজার টাকা

শায়েস্তাগঞ্জ জংশনে ট্রেনের টিকিট পাওয়া মানে রিতিমত সোনার হরিণের মত

  • মামুন চৌধুরী:
  • আপডেট সময় ১১:১২:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ মার্চ ২০২২
  • ১৪৩ বার পড়া হয়েছে

ট্রেন জার্নি বর্তমান সময়ে সবচেয়ে নিরাপদ ও আরামদায়ক। তাই অনেকেই ট্রেনে যাতায়ত করতে পছন্দ করেন। তবে এখন ট্রেনের টিকিট পেতে যাত্রীদের পোহাতে হয় অনেক কষ্ট। ট্রেনের টিকিট পাওয়া মানে রিতিমত সোনার হরিণের মত। আর শায়েস্তাগঞ্জ জংশনে অধিকাংশ সমেয়েই ট্রেনের টিকিট পাওয়া যায় না।  বর্তমানে এ জংশনটি হবিগঞ্জ জেলার একমাত্র রেলওয়ে জংশন হিসেবে গুরুত্ব বহন করছে। ব্রিটিশ আমলে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে সেকশনের সিলেট বিভাগে পাঁচটি জংশন ছিল। এরমধ্যে অন্যতম ছিল এই জংশন।

প্রতিদিন এখান থেকে বিভিন্ন লোকাল ও আন্তঃনগর ট্রেনযোগে এক থেকে দেড়  হাজার যাত্রী দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করে থাকেন। ট্রেন ভ্রমণের পূর্বে টিকিট কিনতে গেলেই দেখা দেয় বিড়ম্বনা। অনেকেই টিকিট না পেয়ে বাধ্য হয়ে সড়কপথে বাসে ভ্রমণ করেন।  আবার অনেক যাত্রী ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে উঠে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন। এতে অনেক যাত্রী দুর্ঘটনা ও পকেটমার আর ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ছেন।

এ অবস্থা দীর্ঘদিনের। বিষয়টি নিয়ে ট্রেন যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।  বর্তমানে স্ট্যান্ডিং টিকিট (দাঁড়ানো টিকেট) বন্ধ রয়েছে। এ কারণে দুর্ভোগ আরো বেড়েছে। এর আগে আসন না পেলেও স্ট্যান্ডিং টিকেট করে যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছাতেন।

সূত্র জানায়, শায়েস্তাগঞ্জ জংশনে ঢাকাগামী উপবনের ৫০টি, পারাবতের ৩০টি, কালনীর ৪৫টি, জয়ন্তিকার ৬৫টি, চট্টগ্রামগামী উদয়নের ৪০টি, পাহাড়িকার ৪৩টি টিকিট রয়েছে। সবমিলিয়ে প্রতিদিন এ জংশনে আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট সংখ্যা ২৭৩টি। যাত্রী সংখ্যা ১ থেকে দেড় হাজার। এজন্য সবার পক্ষে ট্রেনের টিকিট পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। দিন দিন টিকিটের সঙ্কট বাড়ছে। কাউন্টারের সামনে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহণ করতে হয়। এখানে অনেকে পাচ্ছেন, আবার অনেকে টিকিট পান না। এদিকে যাত্রী সেবার মান বৃদ্ধি করতে অনলাইনে টিকিট ব্যবস্থা চালু হলেও সাধারণ যাত্রীদের লাভ নেই। অনলাইনের বেশিরভাগ টিকেট কালোবাজারিদের হাতে চলে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে তাই কালোবাজরিদের কাছ থেকে ২০০ টাকার টিকেট ৫০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে যাত্রীদের।

হবিগঞ্জ শহরের বাসিন্দা ট্রেন যাত্রী কাজল মিয়া বলেন, ঢাকায় যাব। টিকিট পাইনি। তারপরও গন্তব্যে পৌঁছাতে হবে। আসনবিহীন টিকিট বিক্রি বন্ধ রেখেছে স্টেশন কর্তৃপক্ষ। তাই বাধ্য হয়ে কালোবাজারিদের কাছ থেকে ২০০ টাকার টিকেট ৫০০ টাকায় কিনেছি।

 

চুনারুঘাট উপজেলা বাসিন্দা সাজিদুল ইসলাম সাজিদ বলেন চট্টগ্রাম যাবেন। তিনি ট্রেনের টিকিট না পেয়ে হতাশ। অবশেষে সড়কপথে বাসে রওনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

চুনারুঘাট পৌর শহরের বাসিন্দা শেখ ইসমাইল হোসেন বলেন, বহুকষ্টে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করেছি। এখানে টিকিট মানে সোনার হরিণ। টিকিটের জন্য যাত্রীদের বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত টিকিট বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার গৌর প্রসাদ দাস পলাশ বলেন, যাত্রী পরিমাণ হিসেবে ট্রেনের আসন সীমিত। যাত্রী বাড়লেও আসন সংখ্যা বাড়ছে না। ফলে দিন দিন যাত্রী দুর্ভোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা যাত্রী সেবায় কাজ করছি।  টিকিট বৃদ্ধির জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে বলা হয়েছে। বর্তমানে কালোবাজারি নেই বললেই চলে।

তিনি আরো বলেন, ঈদ এলে যাত্রীর সংখ্যা চারগুণ বৃদ্ধি পায়। যাত্রী সামাল দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হয়। তাই ট্রেনের আসনসহ জরুরি ভিত্তিতে টিকিট সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন।

শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ গাজীউর রহমান ইমরান বলেন, কর্তৃপক্ষের কাছে দীর্ঘদিন ধরে টিকিট বৃদ্ধির জন্য দাবি জানালেও কোনো কাজ হচ্ছে না। টিকেট না পেয়ে যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়ছেন।

শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. হারুনুর রশিদ জানান, দিন দিন যাত্রী বেড়েই চলেছে। বাড়ছে না ট্রেনের টিকিট। প্রায় যাত্রী টিকেট না পেয়ে বাসে গন্তব্যে যাত্রা করছেন। যাত্রী সেবার স্বার্থে ট্রেনের টিকিট বাড়ানো ছাড়া বিকল্প পথ নেই।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

হ্যালো, আমি খন্দকার আলাউদ্দিন, আপনাদের চারিপাশের সংবাদ দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করুন।
জনপ্রিয় সংবাদ

২২ দিন অন্ধকারে থাকার পর ব্যারিস্টার সুমনের সহযোগিতায় বিদ্যুৎ সংযোগ পেল ৩৪ টি পরিবার

শায়েস্তাগঞ্জ জংশনে ট্রেনের টিকিট পাওয়া মানে রিতিমত সোনার হরিণের মত

আপডেট সময় ১১:১২:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ মার্চ ২০২২

ট্রেন জার্নি বর্তমান সময়ে সবচেয়ে নিরাপদ ও আরামদায়ক। তাই অনেকেই ট্রেনে যাতায়ত করতে পছন্দ করেন। তবে এখন ট্রেনের টিকিট পেতে যাত্রীদের পোহাতে হয় অনেক কষ্ট। ট্রেনের টিকিট পাওয়া মানে রিতিমত সোনার হরিণের মত। আর শায়েস্তাগঞ্জ জংশনে অধিকাংশ সমেয়েই ট্রেনের টিকিট পাওয়া যায় না।  বর্তমানে এ জংশনটি হবিগঞ্জ জেলার একমাত্র রেলওয়ে জংশন হিসেবে গুরুত্ব বহন করছে। ব্রিটিশ আমলে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে সেকশনের সিলেট বিভাগে পাঁচটি জংশন ছিল। এরমধ্যে অন্যতম ছিল এই জংশন।

প্রতিদিন এখান থেকে বিভিন্ন লোকাল ও আন্তঃনগর ট্রেনযোগে এক থেকে দেড়  হাজার যাত্রী দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করে থাকেন। ট্রেন ভ্রমণের পূর্বে টিকিট কিনতে গেলেই দেখা দেয় বিড়ম্বনা। অনেকেই টিকিট না পেয়ে বাধ্য হয়ে সড়কপথে বাসে ভ্রমণ করেন।  আবার অনেক যাত্রী ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে উঠে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন। এতে অনেক যাত্রী দুর্ঘটনা ও পকেটমার আর ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ছেন।

এ অবস্থা দীর্ঘদিনের। বিষয়টি নিয়ে ট্রেন যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।  বর্তমানে স্ট্যান্ডিং টিকিট (দাঁড়ানো টিকেট) বন্ধ রয়েছে। এ কারণে দুর্ভোগ আরো বেড়েছে। এর আগে আসন না পেলেও স্ট্যান্ডিং টিকেট করে যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছাতেন।

সূত্র জানায়, শায়েস্তাগঞ্জ জংশনে ঢাকাগামী উপবনের ৫০টি, পারাবতের ৩০টি, কালনীর ৪৫টি, জয়ন্তিকার ৬৫টি, চট্টগ্রামগামী উদয়নের ৪০টি, পাহাড়িকার ৪৩টি টিকিট রয়েছে। সবমিলিয়ে প্রতিদিন এ জংশনে আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট সংখ্যা ২৭৩টি। যাত্রী সংখ্যা ১ থেকে দেড় হাজার। এজন্য সবার পক্ষে ট্রেনের টিকিট পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। দিন দিন টিকিটের সঙ্কট বাড়ছে। কাউন্টারের সামনে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহণ করতে হয়। এখানে অনেকে পাচ্ছেন, আবার অনেকে টিকিট পান না। এদিকে যাত্রী সেবার মান বৃদ্ধি করতে অনলাইনে টিকিট ব্যবস্থা চালু হলেও সাধারণ যাত্রীদের লাভ নেই। অনলাইনের বেশিরভাগ টিকেট কালোবাজারিদের হাতে চলে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে তাই কালোবাজরিদের কাছ থেকে ২০০ টাকার টিকেট ৫০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে যাত্রীদের।

হবিগঞ্জ শহরের বাসিন্দা ট্রেন যাত্রী কাজল মিয়া বলেন, ঢাকায় যাব। টিকিট পাইনি। তারপরও গন্তব্যে পৌঁছাতে হবে। আসনবিহীন টিকিট বিক্রি বন্ধ রেখেছে স্টেশন কর্তৃপক্ষ। তাই বাধ্য হয়ে কালোবাজারিদের কাছ থেকে ২০০ টাকার টিকেট ৫০০ টাকায় কিনেছি।

 

চুনারুঘাট উপজেলা বাসিন্দা সাজিদুল ইসলাম সাজিদ বলেন চট্টগ্রাম যাবেন। তিনি ট্রেনের টিকিট না পেয়ে হতাশ। অবশেষে সড়কপথে বাসে রওনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

চুনারুঘাট পৌর শহরের বাসিন্দা শেখ ইসমাইল হোসেন বলেন, বহুকষ্টে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করেছি। এখানে টিকিট মানে সোনার হরিণ। টিকিটের জন্য যাত্রীদের বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত টিকিট বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার গৌর প্রসাদ দাস পলাশ বলেন, যাত্রী পরিমাণ হিসেবে ট্রেনের আসন সীমিত। যাত্রী বাড়লেও আসন সংখ্যা বাড়ছে না। ফলে দিন দিন যাত্রী দুর্ভোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা যাত্রী সেবায় কাজ করছি।  টিকিট বৃদ্ধির জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে বলা হয়েছে। বর্তমানে কালোবাজারি নেই বললেই চলে।

তিনি আরো বলেন, ঈদ এলে যাত্রীর সংখ্যা চারগুণ বৃদ্ধি পায়। যাত্রী সামাল দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হয়। তাই ট্রেনের আসনসহ জরুরি ভিত্তিতে টিকিট সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন।

শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ গাজীউর রহমান ইমরান বলেন, কর্তৃপক্ষের কাছে দীর্ঘদিন ধরে টিকিট বৃদ্ধির জন্য দাবি জানালেও কোনো কাজ হচ্ছে না। টিকেট না পেয়ে যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়ছেন।

শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. হারুনুর রশিদ জানান, দিন দিন যাত্রী বেড়েই চলেছে। বাড়ছে না ট্রেনের টিকিট। প্রায় যাত্রী টিকেট না পেয়ে বাসে গন্তব্যে যাত্রা করছেন। যাত্রী সেবার স্বার্থে ট্রেনের টিকিট বাড়ানো ছাড়া বিকল্প পথ নেই।