হবিগঞ্জ ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই-এএসআই ইলিয়াছ Logo সৌদিতে নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ রেহেনার দেশে ফেরার আকুতি Logo চুনারুঘাটে সাহিত্য-সংস্কৃতির উন্নয়নে সরকারের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস Logo চুনারুঘাটে মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হকের ঘরবাড়ি ও জমি দখলের অভিযোগ Logo চুনারুঘাট সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদের ৩৭তম বর্ষ উদযাপন Logo পাখি শিকারি সেই বদু মিয়ার বাড়িতে বন বিভাগ: ৩ বছর ধরে স্বামী স্ত্রীর অভিমান অবসান ! Logo মাধবপুরে শাহজাহানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন চারতলা ভবনের নির্মাণকাজ উদ্বোধন Logo চার বছর ধরে বেতন-ভাতা বঞ্চিত চৌমুহনী খুর্শিদ হাইস্কুল-কলেজের ৩২ শিক্ষক-কর্মচারী Logo চুনারুঘাটে মোটরসাইকেল-টমটম সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ১ Logo চুনারুঘাটে ‘ইয়াবা নাটক’ সাজিয়ে গ্রেপ্তারের অভিযোগ ২ পুলিশ ক্লোজ

হবিগঞ্জে চৈত্র মাসের তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে: সাধারণ মানুষ প্রতিকার চান

  • আবুল কালাম আজাদ:
  • আপডেট সময় ১২:৪২:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ মার্চ ২০২২
  • ৩৪৪ বার পড়া হয়েছে

কয়েক বছর ধরে চুনারুঘাট উপজেলায় চৈত্র মাসের তীব্র পানি সংকট দেখা দেয়। এই এলাকায় বর্তমানে বোরো মৌসমে ধান চাষাবাদ করার জন অনেকগুলেঅ সেলু মেশিন চালু করা হয়। ফলে চুনারুঘাট উপজেলার ঘরে ঘরে পানির জন্য হাহাকার শুরু হয়। মানুষ পানির জন্য কলসি, ডেক ডেকসি, জগ বোতল নিয়ে গ্রামের সেলু মেশিনের কাছে দৌড়াচ্ছেন। উপজেলার ৭০ শতাংশ অগভীর নলকুপ এখন বন্ধ। বিশুদ্ধ পানি না থাকায় অনেকেই ডোবা পুকুরের পানি পান করে ইতোমধ্যে অসুস্থ্য হতে শুরু করেছেন। এমন খবর উঠে আসছে গ্রামে গ্রামে।
ফাল্গুনের শুরু থেকেই পানি উঠা বন্ধ হয়ে গেছে উপজেলার পৌরশহরসহ ১০টি ইউনিয়নের ঘরে ঘরে।

একদিকে খরা, অন্যদিকে বোরো মওসুমে হাজার হাজার সেলু ও ডিপ টিউবওয়েল স্থাপনের কারণে পানির স্তর ৪০/৪৫ ফুট নিচে নেমে যাওয়ায় বাসা বাড়িতে লোকজন পানির জন্য হাহাকার করছেন। উপজেলার প্রায় ৭০ শতাংশ বাসা বাড়িই এখন বিশুদ্ধ পানির হাহাকার চলছে। এছাড়া চা বাগানের ঘরে ঘরে এখন পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে। চলতি বোরো মওসুমে উপজেলায় এক হাজার ৯’শ ৮৫টি ছোট বড় সেলু মেশিন ও গভীর নলকুপ দ্বারা বোরোতে সেচ দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় মানুষের বাসা বাড়িতে পানি উঠছে না। এ অবস্থায় মানুষকে পানির জন্য আগামী বৈশাখ পর্যন্ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে খবর আসছে মানুষ বিশুদ্ধ পানি না পেয়ে পুকুর কিংবা ডোবার পানি পান করছেন। তার উপর অধিকাংশ পুকুর এখন শুকনো। তাই মানুষ পানির জন্য সকাল থেকেই ছুটে চলেছেন গ্রামের সেলু মেশিন কিংবা গভীর নলকুপে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, অপরিকল্পিত ভাবে কৃষিতে পানি সেচের গভীর নলকুপ বসানোর কারণেই এবার বাড়ি বাড়ি নলকুপের পানি উঠছে না। গ্রামের কৃষকরা যে যেভাবে পারছে, সেভাবেই সেচ মেশিন চালু করেছে। উপজেলা কৃষি বিভাগের মতে চলতি বোরো মওসুমে উপজেলার ১৫ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসলে দিনরাত পানি তুলছে ছোট বড় ১ হাজার ৯শ ৮৫টি সেলু ও ডিপ টিউবওয়েল। এছাড়া শুস্ক মওসুমের কারণে পানির স্তর ৪০ থেকে ৪৫ ফুট নিচে নেমে যাওয়ায় গ্রামে গ্রামে দেড়শ থেকে ৪শ ফুট পর্যন্ত স্থাপিত নলকুপে পানি উঠছে না। চুনারুঘাট পৌর শহরের অধিকাংশ বাসা বাড়িতে এখন তাদের নলকুপে পানি না উঠায় তারা দোকান পাঠ থেকে পানি কিনে পান করছেন। কিন্তু গোসলসহ নানা কাজে ব্যবহৃত পানির কষ্টে তাদের দিন কাটছে। পানির চরম হাহাকার চলছে চা বাগানের লাইনে লাইনে। বাগান এলাকা উচু এবং পাহাড়ী হওয়ার কারণে এমনিতেই তারা সারা বছর পানি সংকটে থাকে। এর মধ্যে শুস্ক মওসুমে তাদের ঘরে ঘরে এখন পানির হাহাকার চলছে।
উপজেলার দেওরগাছ ইউনিয়নের বড়বাড়ি গ্রামের জাকের হোসেন জানান, তার নলকুপে পানি উঠছে না এক মাস ধরে। পাসের সেলু মেশিন থেকে পানি আনতে গেলেও তারা বাধা দিচ্ছে। এ অবস্থায় তার পরিবার পানির চরম কষ্টে আছে। একই অবস্থা উপজেলার প্রতিটি গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে। গাজীপুর গ্রামের আবুল হাসিম বলেন, ঘরে পানি নাই, পুকুরে পানি নাই, গোসলের জন্য যেতে হচ্ছে পাশের খোয়াই নদীতে। চা শ্রমিক নেতা স্বপন সাওতাল বলেন, চা বাগানে পানির জন্য মানুষ ৩দিনেও গোসল করতে পারছে না।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, শুস্ক ও বোরো মওসুমে উপজেলার খোয়াই, করাঙ্গী ও সুতাং নদী থেকে পাওয়ার পাম্প দিয়ে ও পল্টন পদ্ধতিতে পানি উত্তোলন করে এ পানি সংকট দুর করা সম্ভব। বোরো মওসুমে সেলু ও ডিপ টিউবওয়েল চালু রেখে কৃষিতে সেচ দিলে পানির স্তর নিচে নেমে যায় এবং মানুষের দুর্ভোগ কমানো সম্ভব নয়। তিনি নদী থেকে পানি নেওয়া এবং পল্টন পদ্ধতি প্রকল্প চালু করে কৃষিতে পানিসেচ দেওয়ার কথা জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

আপনাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, অনিয়ম, দুর্নীতি, অপরাধ, জনদুর্ভোগ, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও সম্ভাবনার সংবাদ আমাদের জানান।

আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই-এএসআই ইলিয়াছ

হবিগঞ্জে চৈত্র মাসের তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে: সাধারণ মানুষ প্রতিকার চান

আপডেট সময় ১২:৪২:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ মার্চ ২০২২

কয়েক বছর ধরে চুনারুঘাট উপজেলায় চৈত্র মাসের তীব্র পানি সংকট দেখা দেয়। এই এলাকায় বর্তমানে বোরো মৌসমে ধান চাষাবাদ করার জন অনেকগুলেঅ সেলু মেশিন চালু করা হয়। ফলে চুনারুঘাট উপজেলার ঘরে ঘরে পানির জন্য হাহাকার শুরু হয়। মানুষ পানির জন্য কলসি, ডেক ডেকসি, জগ বোতল নিয়ে গ্রামের সেলু মেশিনের কাছে দৌড়াচ্ছেন। উপজেলার ৭০ শতাংশ অগভীর নলকুপ এখন বন্ধ। বিশুদ্ধ পানি না থাকায় অনেকেই ডোবা পুকুরের পানি পান করে ইতোমধ্যে অসুস্থ্য হতে শুরু করেছেন। এমন খবর উঠে আসছে গ্রামে গ্রামে।
ফাল্গুনের শুরু থেকেই পানি উঠা বন্ধ হয়ে গেছে উপজেলার পৌরশহরসহ ১০টি ইউনিয়নের ঘরে ঘরে।

একদিকে খরা, অন্যদিকে বোরো মওসুমে হাজার হাজার সেলু ও ডিপ টিউবওয়েল স্থাপনের কারণে পানির স্তর ৪০/৪৫ ফুট নিচে নেমে যাওয়ায় বাসা বাড়িতে লোকজন পানির জন্য হাহাকার করছেন। উপজেলার প্রায় ৭০ শতাংশ বাসা বাড়িই এখন বিশুদ্ধ পানির হাহাকার চলছে। এছাড়া চা বাগানের ঘরে ঘরে এখন পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে। চলতি বোরো মওসুমে উপজেলায় এক হাজার ৯’শ ৮৫টি ছোট বড় সেলু মেশিন ও গভীর নলকুপ দ্বারা বোরোতে সেচ দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় মানুষের বাসা বাড়িতে পানি উঠছে না। এ অবস্থায় মানুষকে পানির জন্য আগামী বৈশাখ পর্যন্ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে খবর আসছে মানুষ বিশুদ্ধ পানি না পেয়ে পুকুর কিংবা ডোবার পানি পান করছেন। তার উপর অধিকাংশ পুকুর এখন শুকনো। তাই মানুষ পানির জন্য সকাল থেকেই ছুটে চলেছেন গ্রামের সেলু মেশিন কিংবা গভীর নলকুপে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, অপরিকল্পিত ভাবে কৃষিতে পানি সেচের গভীর নলকুপ বসানোর কারণেই এবার বাড়ি বাড়ি নলকুপের পানি উঠছে না। গ্রামের কৃষকরা যে যেভাবে পারছে, সেভাবেই সেচ মেশিন চালু করেছে। উপজেলা কৃষি বিভাগের মতে চলতি বোরো মওসুমে উপজেলার ১৫ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসলে দিনরাত পানি তুলছে ছোট বড় ১ হাজার ৯শ ৮৫টি সেলু ও ডিপ টিউবওয়েল। এছাড়া শুস্ক মওসুমের কারণে পানির স্তর ৪০ থেকে ৪৫ ফুট নিচে নেমে যাওয়ায় গ্রামে গ্রামে দেড়শ থেকে ৪শ ফুট পর্যন্ত স্থাপিত নলকুপে পানি উঠছে না। চুনারুঘাট পৌর শহরের অধিকাংশ বাসা বাড়িতে এখন তাদের নলকুপে পানি না উঠায় তারা দোকান পাঠ থেকে পানি কিনে পান করছেন। কিন্তু গোসলসহ নানা কাজে ব্যবহৃত পানির কষ্টে তাদের দিন কাটছে। পানির চরম হাহাকার চলছে চা বাগানের লাইনে লাইনে। বাগান এলাকা উচু এবং পাহাড়ী হওয়ার কারণে এমনিতেই তারা সারা বছর পানি সংকটে থাকে। এর মধ্যে শুস্ক মওসুমে তাদের ঘরে ঘরে এখন পানির হাহাকার চলছে।
উপজেলার দেওরগাছ ইউনিয়নের বড়বাড়ি গ্রামের জাকের হোসেন জানান, তার নলকুপে পানি উঠছে না এক মাস ধরে। পাসের সেলু মেশিন থেকে পানি আনতে গেলেও তারা বাধা দিচ্ছে। এ অবস্থায় তার পরিবার পানির চরম কষ্টে আছে। একই অবস্থা উপজেলার প্রতিটি গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে। গাজীপুর গ্রামের আবুল হাসিম বলেন, ঘরে পানি নাই, পুকুরে পানি নাই, গোসলের জন্য যেতে হচ্ছে পাশের খোয়াই নদীতে। চা শ্রমিক নেতা স্বপন সাওতাল বলেন, চা বাগানে পানির জন্য মানুষ ৩দিনেও গোসল করতে পারছে না।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, শুস্ক ও বোরো মওসুমে উপজেলার খোয়াই, করাঙ্গী ও সুতাং নদী থেকে পাওয়ার পাম্প দিয়ে ও পল্টন পদ্ধতিতে পানি উত্তোলন করে এ পানি সংকট দুর করা সম্ভব। বোরো মওসুমে সেলু ও ডিপ টিউবওয়েল চালু রেখে কৃষিতে সেচ দিলে পানির স্তর নিচে নেমে যায় এবং মানুষের দুর্ভোগ কমানো সম্ভব নয়। তিনি নদী থেকে পানি নেওয়া এবং পল্টন পদ্ধতি প্রকল্প চালু করে কৃষিতে পানিসেচ দেওয়ার কথা জানান।