মাধবপুর উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ মাধবপুর-হরষপুর সড়কের জরুরি সংস্কার কাজ শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যান চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। এতে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও রোগীবাহী যানবাহনের যাত্রীদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধর্মঘর, চৌমুহনী, বহরা ও আশপাশের এলাকার মানুষের চলাচলের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে ছিল। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সড়কের গর্তে পানি জমে ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটছিল নিয়মিত। অনেক সময় সিএনজি, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়।
এ অবস্থায় স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা বিষয়টি বিভিন্নভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিদের নজরে আনেন। পরে হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মোঃ ফয়সল বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।
মাধবপুর উপজেলা প্রকৌশলী রেজান্নবী জানান, এমপির নির্দেশনার পর উপজেলা এলজিইডি কর্তৃপক্ষ আপদকালীন সংস্কার কাজ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে সড়কের কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে মাটি ভরাট ও ইটের খোয়া ফেলে যান চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
ধর্মঘর এলাকার বাসিন্দা রফিক মিয়া বলেন, “অনেকদিন ধরে আমরা খুব কষ্টে চলাচল করেছি। বিশেষ করে রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে বড় সমস্যা হতো। এখন সংস্কার কাজ শুরু হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছি।”
চৌমুহনী এলাকার বাসিন্দা সালমা বেগম বলেন, “স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের খুব দুর্ভোগ হতো। বৃষ্টির সময় রাস্তায় হাঁটাই কঠিন ছিল। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় আমরা কৃতজ্ঞ।”
চৌমুহনীর স্থানীয় বাসিন্দা ও গণমাধ্যমকর্মী হামিদুর রহমান জানান, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়ে গিয়েছিল এবং ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল। এখন সংস্কার কাজ শুরু হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যেও আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, জরুরি সংস্কারের পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটির পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। তাদের বিশ্বাস, সড়কটি আধুনিক ও টেকসইভাবে নির্মাণ করা হলে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও গতিশীল হবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সংসদ সদস্য সৈয়দ মোঃ ফয়সল বলেন, “মাধবপুর থেকে হরষপুর পর্যন্ত সড়কটি একসময় কাঁচা রাস্তা ছিল। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর তৎকালীন স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারের মাধ্যমে রাস্তা পাকাকরণ ও চৌমুহনী সোনাই নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করা হয়। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। ভবিষ্যতে সড়কটি আরও প্রশস্ত ও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে।”
আলাউদ্দিন আল রনি, মাধবপুর থেকে : 

















