হবিগঞ্জ ১২:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চুনারুঘাটে চা শ্রমিকদের রেইনকোট, হতদরিদ্রদের ঢেউটিন ও শিক্ষার্থীদের হুইলচেয়ার দিলেন এমপি Logo চুনারুঘাটে দেড় কেজি গাঁজাসহ আটক, পুলিশ আসার আগেই পালালেন যুবক Logo চুনারুঘাটের হাজী আলিম উল্লাহ সিনিয়র আলিম মাদ্রাসায় এডহক কমিটি সভাপতি হলেন সাজিদ Logo শায়েস্তাগঞ্জে নাটকের মৌলিক বিষয়ে তিন দিনব্যাপী নাট্য কর্মশালা Logo চুনারুঘাটের রাজার বাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা Logo শিক্ষার্থীদের পরিবহন সুবিধায় হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস সেবা চালু Logo হুইলচেয়ারেই কাটে প্রধান শিক্ষক কল্যাণ কুমার দেবের জীবন Logo চুনারুঘাটে উলামা পরিষদের উদ্যোগে সীরাত মাহফিল ও হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা Logo চুনারুঘাটে প্রবাসী পরিবারের ওপর হামলার ঘটনায় ছায়েদ আলী সহ গ্রেপ্তার ৩ Logo শায়েস্তাগঞ্জের বিশাউড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এফএন ফাউন্ডেশন ইউকে’র উদ্যোগে সিলিং ফ্যান বিতরণ

দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শিতায় ২৫ দিন পর ভারতীয় সেনারা ত্যাগ করে

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৪:৪৯:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ মার্চ ২০২২
  • ৩৬৮ বার পড়া হয়েছে

পাকিস্তানের জেল থেকে মুক্তির পর, লন্ডন হয়ে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন। তার ঠিক ঘণ্টাখানেক আগে দিল্লিতে যাত্রবিরতি করে বঙ্গবন্ধুকে বহন করা ব্রিটিশ রাজকীয় বিমানটি। তাই ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে লন্ডন থেকে ওই বিমানে উঠেছিলেন দেশটির কূটনীতিক শশাঙ্ক শেখর ব্যানার্জি। বিমানেই বঙ্গবন্ধু তাকে বলেন, ‘দিল্লিতে ইন্দিরার সঙ্গে বৈঠকের আগেই তার কাছে একটি খবর পৌঁছানো দরকার। বাংলাদেশ থেকে মিত্রবাহিনী সদস্যদের ৩১ মার্চের মধ্যে ভারতে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি চূড়ান্ত করতে হবে।’

দিল্লির বিমানবন্দরে এই মহামানবকে নিজে উপস্থিত হয়ে অর্ভ্যথনা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। প্রথম সাক্ষাতের বৈঠকেই বঙ্গবন্ধু তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং জানতে চান, পাকিস্তানি হানাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে বুক মিলিয়ে একত্রে যুদ্ধ করা ভারতীয় সৈন্যরা বাংলাদেশ ত্যাগ করবে কবে? বঙ্গবন্ধুর অদম্য নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধা থেকেই সেদিন ভারতীয় সেনাদের দ্রুত ফিরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন ইন্দিরা গান্ধী।

এরপর ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দুই দিনের সফরে ভারতে যান বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কলকাতায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকে তিনি আবারো ভারতীয় সেনা প্রত্যাহারের প্রসঙ্গ তোলেন এবং তাদের প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট তারিখ জানতে চান। বঙ্গবন্ধুর মতো একজন আপাদমস্তক গণতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী নেতার কথার গুরুত্ব অনুধাবন করতে আর সময় সময় নেননি শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী। কিছুক্ষণ ভেবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকে জানান- ইয়োর এক্সেলেন্সি, ১৭ মার্চের আগেই সর্বশেষ ভারতীয় সেনাটিও বাংলাদেশ থেকে ফিরে আসবে। এরপর, ১৯৭২ সালের ১২ মার্চ, ভারতীয় সৈন্যরা বাংলাদেশ থেকে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

বাংলাদেশ স্বাধীনের পর মাত্র তিন মাসের মধ্যে এবং বঙ্গবন্ধু তাদের প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট তারিখ জানতে চাওয়ার মাত্র ২৫ দিনের মাথায় ভারতীয় সেনারা বাংলাদেশ ত্যাগ করে। ঢাকা স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধুকে বিদায়ী কুচকাওয়াজের মাধ্যমে স্যালুট জানিয়ে ভারতে ফিরে যায় মিত্রবাহিনীর সৈন্যরা।

শুধু বঙ্গবন্ধুর মতো একজন বিশ্বনেতার পর্বতপ্রমাণ ব্যক্তিত্বের কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে। এর আগে এবং পরে, বিশ্বের কোনো দেশই তাদের মিত্রবাহিনীর বিদেশি সেনাদের এতো দ্রুত ফেরত পাঠাতে পারেনি।

উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় ইরাকের বিরুদ্ধে কুয়েতকে সাহায্য করতে সেখানে সৈন্য পাঠায় আমেরিকা, ৩০ বছর পার হলেও তারা কুয়েত ছাড়েনি এখনো। তেমনি আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া সহ সবদেশেই সাহায্য করতে ঢুকেছিল ইঙ্গ-মার্কিন ও রুশ সেনারা। কিন্তু পরবর্তীতে তারা নিজেরাই ঘাঁটি গেড়ে বসে। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে মিত্র হিসেবে যোগ দিয়ে, মাত্র তিন মাসের মধ্যে ভারতীয় সেনাদের বাংলাদেশ ত্যাগ করার ঘটনা ইতিহাসের এক নজিরবিহীন অধ্যায়। শুধু অনন্য কূটনৈতিক দক্ষতার কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে। স্বাধীন দেশের মাটিতে পা রাখার আগেই তিনি তার দূরদৃষ্টি দিয়ে অনুধাবন করেছিলেন যে, দেশের মাটিতে কোনো বিদেশি সৈন্য থাকবে না। দেশকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে হলে নিজেদের মানুষের সাহায্যেই তা করতে হবে এবং তিনি দুর্বার গতিতে সেই কাজ সম্পাদন করেছেন।

তৎকালীন বাংলাদেশ সরকারের তথ্য দফতরের মহাপরিচালক ও বঙ্গবন্ধুর ভারত সফরের সাক্ষী এম আর আখতার মুকুলের ‘চল্লিশ থেকে একাত্তর’ ও ‘মুজিবের রক্ত লাল’ গ্রন্থে এ বিষয়ে বিষদ বিবরণ দেওয়া হয়েছে।

#বঙ্গবন্ধু #ইন্দিরাগান্ধী #মুক্তিযুদ্ধ

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

আপনাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, অনিয়ম, দুর্নীতি, অপরাধ, জনদুর্ভোগ, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও সম্ভাবনার সংবাদ আমাদের জানান।
জনপ্রিয় সংবাদ

চুনারুঘাটে চা শ্রমিকদের রেইনকোট, হতদরিদ্রদের ঢেউটিন ও শিক্ষার্থীদের হুইলচেয়ার দিলেন এমপি

দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শিতায় ২৫ দিন পর ভারতীয় সেনারা ত্যাগ করে

আপডেট সময় ০৪:৪৯:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ মার্চ ২০২২

পাকিস্তানের জেল থেকে মুক্তির পর, লন্ডন হয়ে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন। তার ঠিক ঘণ্টাখানেক আগে দিল্লিতে যাত্রবিরতি করে বঙ্গবন্ধুকে বহন করা ব্রিটিশ রাজকীয় বিমানটি। তাই ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে লন্ডন থেকে ওই বিমানে উঠেছিলেন দেশটির কূটনীতিক শশাঙ্ক শেখর ব্যানার্জি। বিমানেই বঙ্গবন্ধু তাকে বলেন, ‘দিল্লিতে ইন্দিরার সঙ্গে বৈঠকের আগেই তার কাছে একটি খবর পৌঁছানো দরকার। বাংলাদেশ থেকে মিত্রবাহিনী সদস্যদের ৩১ মার্চের মধ্যে ভারতে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি চূড়ান্ত করতে হবে।’

দিল্লির বিমানবন্দরে এই মহামানবকে নিজে উপস্থিত হয়ে অর্ভ্যথনা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। প্রথম সাক্ষাতের বৈঠকেই বঙ্গবন্ধু তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং জানতে চান, পাকিস্তানি হানাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে বুক মিলিয়ে একত্রে যুদ্ধ করা ভারতীয় সৈন্যরা বাংলাদেশ ত্যাগ করবে কবে? বঙ্গবন্ধুর অদম্য নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধা থেকেই সেদিন ভারতীয় সেনাদের দ্রুত ফিরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন ইন্দিরা গান্ধী।

এরপর ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দুই দিনের সফরে ভারতে যান বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কলকাতায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকে তিনি আবারো ভারতীয় সেনা প্রত্যাহারের প্রসঙ্গ তোলেন এবং তাদের প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট তারিখ জানতে চান। বঙ্গবন্ধুর মতো একজন আপাদমস্তক গণতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী নেতার কথার গুরুত্ব অনুধাবন করতে আর সময় সময় নেননি শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী। কিছুক্ষণ ভেবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকে জানান- ইয়োর এক্সেলেন্সি, ১৭ মার্চের আগেই সর্বশেষ ভারতীয় সেনাটিও বাংলাদেশ থেকে ফিরে আসবে। এরপর, ১৯৭২ সালের ১২ মার্চ, ভারতীয় সৈন্যরা বাংলাদেশ থেকে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

বাংলাদেশ স্বাধীনের পর মাত্র তিন মাসের মধ্যে এবং বঙ্গবন্ধু তাদের প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট তারিখ জানতে চাওয়ার মাত্র ২৫ দিনের মাথায় ভারতীয় সেনারা বাংলাদেশ ত্যাগ করে। ঢাকা স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধুকে বিদায়ী কুচকাওয়াজের মাধ্যমে স্যালুট জানিয়ে ভারতে ফিরে যায় মিত্রবাহিনীর সৈন্যরা।

শুধু বঙ্গবন্ধুর মতো একজন বিশ্বনেতার পর্বতপ্রমাণ ব্যক্তিত্বের কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে। এর আগে এবং পরে, বিশ্বের কোনো দেশই তাদের মিত্রবাহিনীর বিদেশি সেনাদের এতো দ্রুত ফেরত পাঠাতে পারেনি।

উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় ইরাকের বিরুদ্ধে কুয়েতকে সাহায্য করতে সেখানে সৈন্য পাঠায় আমেরিকা, ৩০ বছর পার হলেও তারা কুয়েত ছাড়েনি এখনো। তেমনি আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া সহ সবদেশেই সাহায্য করতে ঢুকেছিল ইঙ্গ-মার্কিন ও রুশ সেনারা। কিন্তু পরবর্তীতে তারা নিজেরাই ঘাঁটি গেড়ে বসে। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে মিত্র হিসেবে যোগ দিয়ে, মাত্র তিন মাসের মধ্যে ভারতীয় সেনাদের বাংলাদেশ ত্যাগ করার ঘটনা ইতিহাসের এক নজিরবিহীন অধ্যায়। শুধু অনন্য কূটনৈতিক দক্ষতার কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে। স্বাধীন দেশের মাটিতে পা রাখার আগেই তিনি তার দূরদৃষ্টি দিয়ে অনুধাবন করেছিলেন যে, দেশের মাটিতে কোনো বিদেশি সৈন্য থাকবে না। দেশকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে হলে নিজেদের মানুষের সাহায্যেই তা করতে হবে এবং তিনি দুর্বার গতিতে সেই কাজ সম্পাদন করেছেন।

তৎকালীন বাংলাদেশ সরকারের তথ্য দফতরের মহাপরিচালক ও বঙ্গবন্ধুর ভারত সফরের সাক্ষী এম আর আখতার মুকুলের ‘চল্লিশ থেকে একাত্তর’ ও ‘মুজিবের রক্ত লাল’ গ্রন্থে এ বিষয়ে বিষদ বিবরণ দেওয়া হয়েছে।

#বঙ্গবন্ধু #ইন্দিরাগান্ধী #মুক্তিযুদ্ধ