হবিগঞ্জ ০৫:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মাধবপুরে সরকারি মাঠের গাছ কাটার অভিযোগ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন Logo এক রাতে পাশাপাশি ৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে সার্কেল এএসপি Logo মিরাশী ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী আব্দুল মনাফ মিয়া Logo জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে সিলেট বিভাগে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন ইউএনও মেহেদী হাসানের Logo মাদক-অপরাধ দমনে চুনারুঘাটে পুলিশের নজরদারি বাড়ছে Logo ‘অবিচল বিশ্বাসের ৫০ বছর’ উদযাপনে হবিগঞ্জে র‍্যালি ও গ্রাহক সম্মেলন Logo চুনারুঘাট থানায় ১২ দিনে প্রত্যাহার ৪ পুলিশ সদস্য Logo তরুণ আলোকচিত্রী মারুফের ‘বোটানিক্যাল সাইলেন্স’, প্রকৃতির সৌন্দর্যে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি Logo লন্ডনে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকের জাতীয় সম্মেলন সফল করার আহ্বান Logo চুনারুঘাটে ঘুষের ভিডিও ভাইরাল, এএসআই অতনু প্রত্যাহার

এক রাতে পাশাপাশি ৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে সার্কেল এএসপি

হবিগঞ্জের মাধবপুরে এক রাতেই পাশাপাশি ৩ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যালয়গুলো হলো উপজেলার বহরা ইউনিয়নের দলগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং চৌমুহনী ইউনিয়নের কালিকাপুর ও গোপীনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ ঘটনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন মাধবপুর-চুনারুঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. রাফিউর রহমান।

রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে সংঘটিত এসব চুরির ঘটনায় দুর্বৃত্তরা বিদ্যালয়গুলোর তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লকের পানির ট্যাপসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল চুরি করে নিয়ে যায় বলে জানা গেছে।

একই রাতে তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম চুরি হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় তিনটি বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের ধারণা, মাদকাসক্ত কিছু ব্যক্তি রাতে বিদ্যালয়গুলোতে প্রবেশ করে মাদক সেবন এবং পরে বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি করে থাকতে পারে। তবে চুরির সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাসিমা আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “চুরির যন্ত্রণায় আমরা অতিষ্ঠ। আমরা পড়াব, নাকি চোর পাহারা দেব? এখন পানির লাইনের সরঞ্জাম চুরি হওয়ায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বড় ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হবে।”

গোপীনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রুবিনা আক্তার বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ে কোনো নৈশপ্রহরী নেই। দ্রুত বরাদ্দ দিয়ে চুরি হওয়া সরঞ্জামগুলো পুনরায় স্থাপনের ব্যবস্থা করা হোক।”

এ বিষয়ে সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, “বিদ্যালয়গুলোকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করছি। সার্কেল এএসপি মহোদয় ঘটনাস্থল পরিদর্শন একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছি।”

এদিকে শিক্ষক নেতা ও সুরমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নয়ন চৌধুরী বলেন, “প্রায়ই প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চুরির ঘটনা ঘটছে। নৈশপ্রহরী না থাকায় কিছু বিদ্যালয়ের অবস্থা বেশি খারাপ। চুরির ঘটনায় দায়ের করা জিডি ও অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে চক্রটিকে শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে চুরির ঘটনা কমে আসবে।”

মাধবপুর-চুনারুঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. রাফিউর রহমান বলেন, “আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

আপনাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, অনিয়ম, দুর্নীতি, অপরাধ, জনদুর্ভোগ, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও সম্ভাবনার সংবাদ আমাদের জানান।
জনপ্রিয় সংবাদ

মাধবপুরে সরকারি মাঠের গাছ কাটার অভিযোগ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন

এক রাতে পাশাপাশি ৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে সার্কেল এএসপি

আপডেট সময় ০৪:১৭:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

হবিগঞ্জের মাধবপুরে এক রাতেই পাশাপাশি ৩ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যালয়গুলো হলো উপজেলার বহরা ইউনিয়নের দলগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং চৌমুহনী ইউনিয়নের কালিকাপুর ও গোপীনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ ঘটনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন মাধবপুর-চুনারুঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. রাফিউর রহমান।

রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে সংঘটিত এসব চুরির ঘটনায় দুর্বৃত্তরা বিদ্যালয়গুলোর তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লকের পানির ট্যাপসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল চুরি করে নিয়ে যায় বলে জানা গেছে।

একই রাতে তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম চুরি হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় তিনটি বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের ধারণা, মাদকাসক্ত কিছু ব্যক্তি রাতে বিদ্যালয়গুলোতে প্রবেশ করে মাদক সেবন এবং পরে বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি করে থাকতে পারে। তবে চুরির সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাসিমা আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “চুরির যন্ত্রণায় আমরা অতিষ্ঠ। আমরা পড়াব, নাকি চোর পাহারা দেব? এখন পানির লাইনের সরঞ্জাম চুরি হওয়ায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বড় ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হবে।”

গোপীনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রুবিনা আক্তার বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ে কোনো নৈশপ্রহরী নেই। দ্রুত বরাদ্দ দিয়ে চুরি হওয়া সরঞ্জামগুলো পুনরায় স্থাপনের ব্যবস্থা করা হোক।”

এ বিষয়ে সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, “বিদ্যালয়গুলোকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করছি। সার্কেল এএসপি মহোদয় ঘটনাস্থল পরিদর্শন একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছি।”

এদিকে শিক্ষক নেতা ও সুরমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নয়ন চৌধুরী বলেন, “প্রায়ই প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চুরির ঘটনা ঘটছে। নৈশপ্রহরী না থাকায় কিছু বিদ্যালয়ের অবস্থা বেশি খারাপ। চুরির ঘটনায় দায়ের করা জিডি ও অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে চক্রটিকে শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে চুরির ঘটনা কমে আসবে।”

মাধবপুর-চুনারুঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. রাফিউর রহমান বলেন, “আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”