হবিগঞ্জ ০১:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চুনারুঘাটে মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হকের ঘরবাড়ি ও জমি দখলের অভিযোগ Logo চুনারুঘাট সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদের ৩৭তম বর্ষ উদযাপন Logo পাখি শিকারি সেই বদু মিয়ার বাড়িতে বন বিভাগ: ৩ বছর ধরে স্বামী স্ত্রীর অভিমান অবসান ! Logo মাধবপুরে শাহজাহানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন চারতলা ভবনের নির্মাণকাজ উদ্বোধন Logo চার বছর ধরে বেতন-ভাতা বঞ্চিত চৌমুহনী খুর্শিদ হাইস্কুল-কলেজের ৩২ শিক্ষক-কর্মচারী Logo চুনারুঘাটে মোটরসাইকেল-টমটম সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ১ Logo চুনারুঘাটে ‘ইয়াবা নাটক’ সাজিয়ে গ্রেপ্তারের অভিযোগ ২ পুলিশ ক্লোজ Logo হবিগঞ্জে সেরা গুণী শিক্ষক জহুর চান বিবি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আল মামুন Logo হবিগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক আহমেদ আলী মুকিবকে রাজসিক সংবর্ধনা দিলেন সৈয়দ মুশফিক আহমেদ Logo চুনারুঘাটে অবৈধ মাটি কাটায় এক্সক্যাভেটর ভাঙচুর, তেল বিক্রেতাকে জরিমানা
আদালতে মামলা, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ

চুনারুঘাটে মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হকের ঘরবাড়ি ও জমি দখলের অভিযোগ

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হকের বসতবাড়ি ও জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তাঁর ভাই শামছুল হক এবং দুই ভাতিজা নজরুল ইসলাম ফটিক ও হারুন মিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নুরুল হক হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৃথক আবেদন করেছেন। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা, প্রাণনাশের হুমকি এবং শান্তিভঙ্গের আশঙ্কার কথাও আবেদনে উল্লেখ করেছেন তিনি।
আদালতে দাখিল করা আবেদন ও সংশ্লিষ্ট নোটিশ সূত্রে জানা যায়, নুরুল হকের পিতা আব্দুস সহিদের মৃত্যুর পর পারিবারিক আপস-বণ্টনের মাধ্যমে চুনারুঘাট উপজেলার ১০ নম্বর মিরাশী ইউনিয়নের আমতলা মৌজায় তিনটি দাগে মোট ২৭ শতক জমি তিনি পেয়েছেন বলে দাবি করেন। এর মধ্যে একটি দাগে ৪ শতক, অন্য দুটিতে যথাক্রমে ১০ ও ১৩ শতক জমি রয়েছে। এসব জমি তিনি ভোগদখল করে আসছেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করেন।
নুরুল হকের অভিযোগ, জমির সীমানা ও মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ভাই ও ভাতিজাদের সঙ্গে বিরোধ চলছে। একপর্যায়ে তাঁরা জমি জোরপূর্বক দখল করে তাঁকে বেদখল করার চেষ্টা করছেন বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
আদালতে দাখিল করা আরেকটি আবেদনে নুরুল হক অভিযোগ করেন, গত ২ আগস্ট ২০২৬ বিকেলে স্থানীয় নালমুখ বাজারে যাওয়ার পথে পলিন মিয়ার বাড়ির সামনে পৌঁছালে তাঁর ভাই ও দুই ভাতিজা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে এগিয়ে আসেন। এ সময় তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এ ছাড়া তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন নুরুল হক। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আদালতের নথি অনুযায়ী, জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারায় ৬৪৯/২০২৬ নম্বর মামলা করা হয়। ৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখের একটি নোটিশে মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষকে বিরোধপূর্ণ জমিতে দাঙ্গা-হাঙ্গামা না করা, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে—এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। নোটিশে পরবর্তী তারিখ হিসেবে ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ উল্লেখ রয়েছে।
এ ছাড়া হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে নুরুল হক ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭, ১১৪ ও ১১৭(সি) ধারায় পৃথক আবেদন করেছেন। আবেদনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মুচলেকা নেওয়ার জন্য আদালতের কাছে প্রার্থনা জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য এবং মামলাগুলোর সর্বশেষ অগ্রগতি জানা গেলে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

আপনাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, অনিয়ম, দুর্নীতি, অপরাধ, জনদুর্ভোগ, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও সম্ভাবনার সংবাদ আমাদের জানান।

চুনারুঘাটে মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হকের ঘরবাড়ি ও জমি দখলের অভিযোগ

আদালতে মামলা, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ

চুনারুঘাটে মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হকের ঘরবাড়ি ও জমি দখলের অভিযোগ

আপডেট সময় ০১:৫৭:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হকের বসতবাড়ি ও জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তাঁর ভাই শামছুল হক এবং দুই ভাতিজা নজরুল ইসলাম ফটিক ও হারুন মিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নুরুল হক হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৃথক আবেদন করেছেন। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা, প্রাণনাশের হুমকি এবং শান্তিভঙ্গের আশঙ্কার কথাও আবেদনে উল্লেখ করেছেন তিনি।
আদালতে দাখিল করা আবেদন ও সংশ্লিষ্ট নোটিশ সূত্রে জানা যায়, নুরুল হকের পিতা আব্দুস সহিদের মৃত্যুর পর পারিবারিক আপস-বণ্টনের মাধ্যমে চুনারুঘাট উপজেলার ১০ নম্বর মিরাশী ইউনিয়নের আমতলা মৌজায় তিনটি দাগে মোট ২৭ শতক জমি তিনি পেয়েছেন বলে দাবি করেন। এর মধ্যে একটি দাগে ৪ শতক, অন্য দুটিতে যথাক্রমে ১০ ও ১৩ শতক জমি রয়েছে। এসব জমি তিনি ভোগদখল করে আসছেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করেন।
নুরুল হকের অভিযোগ, জমির সীমানা ও মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ভাই ও ভাতিজাদের সঙ্গে বিরোধ চলছে। একপর্যায়ে তাঁরা জমি জোরপূর্বক দখল করে তাঁকে বেদখল করার চেষ্টা করছেন বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
আদালতে দাখিল করা আরেকটি আবেদনে নুরুল হক অভিযোগ করেন, গত ২ আগস্ট ২০২৬ বিকেলে স্থানীয় নালমুখ বাজারে যাওয়ার পথে পলিন মিয়ার বাড়ির সামনে পৌঁছালে তাঁর ভাই ও দুই ভাতিজা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে এগিয়ে আসেন। এ সময় তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এ ছাড়া তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন নুরুল হক। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আদালতের নথি অনুযায়ী, জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারায় ৬৪৯/২০২৬ নম্বর মামলা করা হয়। ৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখের একটি নোটিশে মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষকে বিরোধপূর্ণ জমিতে দাঙ্গা-হাঙ্গামা না করা, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে—এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। নোটিশে পরবর্তী তারিখ হিসেবে ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ উল্লেখ রয়েছে।
এ ছাড়া হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে নুরুল হক ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭, ১১৪ ও ১১৭(সি) ধারায় পৃথক আবেদন করেছেন। আবেদনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মুচলেকা নেওয়ার জন্য আদালতের কাছে প্রার্থনা জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য এবং মামলাগুলোর সর্বশেষ অগ্রগতি জানা গেলে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।