হবিগঞ্জ ১২:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কুলাউড়ায় কলেজ পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মাজহারুল ইসলাম কুলাউড়া Logo চুনারুঘাটে চা শ্রমিকদের রেইনকোট, হতদরিদ্রদের ঢেউটিন ও শিক্ষার্থীদের হুইলচেয়ার দিলেন এমপি Logo চুনারুঘাটে দেড় কেজি গাঁজাসহ আটক, পুলিশ আসার আগেই পালালেন যুবক Logo চুনারুঘাটের হাজী আলিম উল্লাহ সিনিয়র আলিম মাদ্রাসায় এডহক কমিটি সভাপতি হলেন সাজিদ Logo শায়েস্তাগঞ্জে নাটকের মৌলিক বিষয়ে তিন দিনব্যাপী নাট্য কর্মশালা Logo চুনারুঘাটের রাজার বাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা Logo শিক্ষার্থীদের পরিবহন সুবিধায় হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস সেবা চালু Logo হুইলচেয়ারেই কাটে প্রধান শিক্ষক কল্যাণ কুমার দেবের জীবন Logo চুনারুঘাটে উলামা পরিষদের উদ্যোগে সীরাত মাহফিল ও হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা Logo চুনারুঘাটে প্রবাসী পরিবারের ওপর হামলার ঘটনায় ছায়েদ আলী সহ গ্রেপ্তার ৩
আমার শরীরের এমন কোন স্থান নাই তারা আঘাত করেনি।

চুনারুঘাটে যৌতুকের দাবীতে গর্ভবতী গৃহবধুকে ৫ দিন যাবৎ অমানুষিক নির্যাতন : ৯৯৯ কল পেয়ে উদ্ধার করল পুলিশ

চুনারুঘাটে যৌতুকের দাবীতে ৬ মাসের গর্ভবতী গৃহবধু মোছাঃ রিমা আক্তার (২২) কে ৫ দিন যাবৎ অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামী-সতীনসহ পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে। গত (৩ এপ্রিল) বুধবার গভীর রাতে চুনারুঘাট থানার এসআই ছদরুল আমিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ উপজেলার শানখলা ইউনিয়নের ডেওয়াতলী গ্রাম থেকে আহত অবস্থায় ওই গৃহবধুকে উদ্ধার করেন।

পরিবার সূত্রে জানাযায়, চুনারুঘাট উপজেলার দ্বি-মাগুরুন্ডা গ্রামের মোঃ আলফু মিয়ার মেয়ে রিমা আক্তারের সাথে একই উপেজেলা শানখলা ইউনিয়নের ডেওয়াতলী গ্রামের নবির হোসেন সানুর ছেলে সুলতান হোসেনের সাথে পারিবারিকভাবে দুজনের বিয়ে হয়। বিয়ের মাস তিন এক যেতে না যেতেই রিমার উপর শুরু হয় যৌতুক লোভী স্বামী ও তার পরিবারের নির্যাতন।

এছাড়াও রিমা স্বামী সুলতানসহ শ্বশুর-শাশুড়ি নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিয়ের ৪ মাস পর সুলতান ফের বিয়ে করে বাড়িতে নতুন বউ নিয়ে আসে। সে দ্বিতীয় বিয়ে করার পর নির্যাতনের মাত্রা দিন দিন আরে বাড়তে থাকে। এতো দিন শুধু সুলতানসহ তার বাবা-মা যৌতুকের জন্য নির্যাতন করত। কিন্তু সে দ্বিতীয় বিয়ে করার পর তার বউকে নিয়ে রিমার উপর নির্যাতন চালাত।

সর্বশেষ গত এক সপ্তাহ ধরে বাড়ির একটি রুমে বন্ধ রেখে নির্যাতন করে স্বামী সুলতান ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী। শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে প্রাণে বাচার জন্য রিমা ৯৯৯ কল করে চুনারুঘাট থানায়। পরে থানার এসআই ছদরুল আমিন ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় রিমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। পরে ওই গৃহবধু তার চাচার জিম্মায় দেয়া হয়।

পরবর্তীতে রিমা অবস্থা অবনতি হওয়ায় পরিবারের লোকজন চুনারুঘাট হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসক রিমাকে আল্টাসুনোগ্রাম সহ কয়েকটি টেস্ট করাতে পরামর্শ দেন। রিপোর্ট দেখে ডাক্তার জানিয়েছেন তার গর্ভের সন্তানের অবস্থা খুবই আশঙ্ককাজনক অবস্থায় রয়েছে।

আহত রিমা আক্তার জানান-আমার স্বামী, শাশুড়ী ও সতীনও আমাকে বিভিন্ন সময় মারপিট করত। আমার গরীব পিতা তাদের যৌতুকের চাহিদা পূরণ করতে না পাড়ায় প্রায় সময়ই আমার স্বামী আমার গায়ে হাত তুলত।

সর্বশেষ ৫দিন যাবৎ পরিবার সবাই মিলে আমার শরীরের এমন কোন স্থান নাই তারা আঘাত করেনি। আমার শাশুড়ি গরম পানি দিয়ে আমার শরিরের ঢেলে দিয়ে নির্যাতন করেছে।

আমার স্বামী আমার পেটে অনেকগুলো লাতি মেরেছে। যা এখনো আমি পেট ব্যাথায় চটপট করছি। এমনকি আমার গর্ভের সন্তান তাদের হাত থেকে রা পায় নি। ডাক্তার বলেছেন এখনো আমার গর্ভের সন্তান আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে। আমি যৌতুক লোভী পাষাণদের বিচার চাই।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

আপনাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, অনিয়ম, দুর্নীতি, অপরাধ, জনদুর্ভোগ, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও সম্ভাবনার সংবাদ আমাদের জানান।
জনপ্রিয় সংবাদ

কুলাউড়ায় কলেজ পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মাজহারুল ইসলাম কুলাউড়া

আমার শরীরের এমন কোন স্থান নাই তারা আঘাত করেনি।

চুনারুঘাটে যৌতুকের দাবীতে গর্ভবতী গৃহবধুকে ৫ দিন যাবৎ অমানুষিক নির্যাতন : ৯৯৯ কল পেয়ে উদ্ধার করল পুলিশ

আপডেট সময় ১২:৫০:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ এপ্রিল ২০২৪

চুনারুঘাটে যৌতুকের দাবীতে ৬ মাসের গর্ভবতী গৃহবধু মোছাঃ রিমা আক্তার (২২) কে ৫ দিন যাবৎ অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামী-সতীনসহ পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে। গত (৩ এপ্রিল) বুধবার গভীর রাতে চুনারুঘাট থানার এসআই ছদরুল আমিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ উপজেলার শানখলা ইউনিয়নের ডেওয়াতলী গ্রাম থেকে আহত অবস্থায় ওই গৃহবধুকে উদ্ধার করেন।

পরিবার সূত্রে জানাযায়, চুনারুঘাট উপজেলার দ্বি-মাগুরুন্ডা গ্রামের মোঃ আলফু মিয়ার মেয়ে রিমা আক্তারের সাথে একই উপেজেলা শানখলা ইউনিয়নের ডেওয়াতলী গ্রামের নবির হোসেন সানুর ছেলে সুলতান হোসেনের সাথে পারিবারিকভাবে দুজনের বিয়ে হয়। বিয়ের মাস তিন এক যেতে না যেতেই রিমার উপর শুরু হয় যৌতুক লোভী স্বামী ও তার পরিবারের নির্যাতন।

এছাড়াও রিমা স্বামী সুলতানসহ শ্বশুর-শাশুড়ি নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিয়ের ৪ মাস পর সুলতান ফের বিয়ে করে বাড়িতে নতুন বউ নিয়ে আসে। সে দ্বিতীয় বিয়ে করার পর নির্যাতনের মাত্রা দিন দিন আরে বাড়তে থাকে। এতো দিন শুধু সুলতানসহ তার বাবা-মা যৌতুকের জন্য নির্যাতন করত। কিন্তু সে দ্বিতীয় বিয়ে করার পর তার বউকে নিয়ে রিমার উপর নির্যাতন চালাত।

সর্বশেষ গত এক সপ্তাহ ধরে বাড়ির একটি রুমে বন্ধ রেখে নির্যাতন করে স্বামী সুলতান ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী। শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে প্রাণে বাচার জন্য রিমা ৯৯৯ কল করে চুনারুঘাট থানায়। পরে থানার এসআই ছদরুল আমিন ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় রিমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। পরে ওই গৃহবধু তার চাচার জিম্মায় দেয়া হয়।

পরবর্তীতে রিমা অবস্থা অবনতি হওয়ায় পরিবারের লোকজন চুনারুঘাট হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসক রিমাকে আল্টাসুনোগ্রাম সহ কয়েকটি টেস্ট করাতে পরামর্শ দেন। রিপোর্ট দেখে ডাক্তার জানিয়েছেন তার গর্ভের সন্তানের অবস্থা খুবই আশঙ্ককাজনক অবস্থায় রয়েছে।

আহত রিমা আক্তার জানান-আমার স্বামী, শাশুড়ী ও সতীনও আমাকে বিভিন্ন সময় মারপিট করত। আমার গরীব পিতা তাদের যৌতুকের চাহিদা পূরণ করতে না পাড়ায় প্রায় সময়ই আমার স্বামী আমার গায়ে হাত তুলত।

সর্বশেষ ৫দিন যাবৎ পরিবার সবাই মিলে আমার শরীরের এমন কোন স্থান নাই তারা আঘাত করেনি। আমার শাশুড়ি গরম পানি দিয়ে আমার শরিরের ঢেলে দিয়ে নির্যাতন করেছে।

আমার স্বামী আমার পেটে অনেকগুলো লাতি মেরেছে। যা এখনো আমি পেট ব্যাথায় চটপট করছি। এমনকি আমার গর্ভের সন্তান তাদের হাত থেকে রা পায় নি। ডাক্তার বলেছেন এখনো আমার গর্ভের সন্তান আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে। আমি যৌতুক লোভী পাষাণদের বিচার চাই।