হবিগঞ্জ ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ২২ দিন অন্ধকারে থাকার পর ব্যারিস্টার সুমনের সহযোগিতায় বিদ্যুৎ সংযোগ পেল ৩৪ টি পরিবার Logo মাধবপুরে আগুনে পুড়ে ছাই হলো মিলনের বেঁচে থাকার অবলম্বন Logo চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাচনে ১৭ প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র দাখিল Logo সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন Logo বিদ্যুৎপৃষ্ঠে নিহতের পরিবারের পাশে ব্যারিস্টার সুমন-এমপি Logo টেকনাফের ব্যাবসায়ী ৫শ’ পিছ ইয়াবাসহ চুনারুঘাটে গ্রেপ্তার Logo চুনারুঘাটে তীব্র দাবদাহে সুপেয় পানি ও খাবার স্যালাইন বিতরণ Logo শেখ হাসিনার আধুনিক চিন্তা ধারায় বদলে গেল কৃষিখাত, ব্যারিস্টার সুমন Logo কথায় কথায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক তাদের কাম কি? মানুষের টাকা মেরে দেয়া, ব্যারিস্টার সুমন Logo বাহুবলে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন, জরিমানা ৫০ হাজার টাকা

অবাধে গাছ পাচারে বিলুপ্ত হতে চলেছে চুনারুঘাটের রেমা-কালেঙ্গার চিরহরিৎ সবুজ বন

রেমা কালেঙ্গা থেকে প্রতিদিন অবাধে গাছ কাটা হচ্ছে। পাচার মূূূূ্ল্যবান গাছ। অবয়রাণ্য হারাচ্ছে চিরহরিৎ সবুজ বন। এর সাথে জড়িত রয়েছে বনের অসাধু কর্তকর্তার যোগসাজশ।

গাছ কাটা, বন সম্পদ আহড়ণ, বন কেটে লেবু আনারস বাগান আর বন কেটে কৃষিজমি বৃদ্ধির কারণে ক্রমেই কমে আসছে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের বনের পরিমান। জেলার ১৮ হাজার হেক্টর (প্রায় ৪৫ হাজার একর) বনের মধ্যে চুনারুঘাটেই রযেছে ৭৫ ভাগ বন। উপজেলার ২টি রেঞ্জের ৯টি বনবিটের মধ্যে রেমা, কালেঙ্গা, ছনবাড়ি, সাতছড়ি, তেলমাছড়া ও বঘুনন্দন হচ্ছে শুকনো ও মিশ্র চিরহরিৎ বন। এ বনগুলো জীব ও উদ্ভিদবৈচিত্র্যে দেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ এলাকা। কিন্তু মনুষ্য অত্যাচার আর বন বিভাগের তদারিক ও লোকবলের সংকটের কারণে ্ক্রমেই এসব বনের গাছপালা কমে যাচ্ছে। কমে যাচ্ছে জীববৈচিত্র। বন কেটে তৈরী করা হচ্ছে কৃষিজমি ও বাড়িঘর। গড়ে তোলা হচ্ছে লেবু ও আনারস বাগান। এ অবস্থায় বনের খাদ্য শৃঙ্খল ভেঙে পড়ার পাশাপাশি পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা করা হচ্ছে। চুনারুঘাটে দু বছর ধরে বন দিবসেরও কোন কর্মসূচী পালনও করেনি বনবিভাগ। বন রক্ষায় সাধারণ মানুষের ভুমিকা একেবারেই কম।
উপজেলার দক্ষিন পূর্বাঞ্চলে রয়েছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহৎ প্রাকৃতিক বন রেমা ও কালেঙ্গা বন। জীব ও উদ্ভিদ বৈচিত্রে সমৃদ্ধ ভান্ডার হিসেবে খ্যাত এ বনের সৌন্দর্য্যই আলাদা। শুকনো ও মিশ্র চিরহরিৎ এ বনটিকে সরকার ২০০৫ সালে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ঘোষনা করেছে। বনে ছনবাড়ি, রেমা ও কালেঙ্গায় গেলেই নানা প্রজাতির প্রাণীর দেখা মিলে। এ বনে রয়েছে মহাবিপন্ন উল্লুক, চশমা পড়া হনুমান, রজ্জাবতী বারন, বনরুই ও সজারুসহ বিপন্ন প্রজাতির নানা প্রাণী। আছে আন্তর্জাতিকভাবে বিপন্ন পাখি লালমাথা ট্র্রগন, রাজ ধনেশ, ইমপেরিয়াল পিজিয়ন। বিপন্ন স্থন্যপায়ীদের মধ্যে কাঁকড়াখেকো বেজি, উড়ুক্কু কাঠবিড়ালি, রামকোটা কাঠবিড়ালিও দেখা গেছে এ বনে। দেশের সবচেয়ে বড় বন সুন্দরবনের উদ্ভিদবৈচিত্র মাত্র ৩৩০ প্রজাতিতে সীমাবদ্ধ। এখানকার বানরজাতীয় প্রাণীর বৈচিত্র এ বনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য।
রেমা কালেঙ্গার বনে বহু আগে থেকেই প্রভাবশালী মহলের অত্যাচার চলে আসছে। তারা বন কেটে পরিস্কার করে লেবু বাগান করছে। শ্রীমঙ্গল ও সাতগাও এলাকার প্রভাবশালীরা এসব বাগান করছেন। ইতোমধ্যে প্রায় ৮৪ একর বন দখলে চলে গেছে। মাঝে মাঝে বন বিভাগ অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু প্রভাবশালীদের উচ্ছেদ করা যাচ্ছেনা। ফলে প্রতি বছর কমছে বন আর বাড়ছে লেবু বাগান। অভয়ারণ্যটি ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত। ১৯৯৬ সালে একে সম্প্রসারিত করায় বর্তমান আয়তন ১৭৯৫ হেক্টর। এই অভয়ারণ্যের উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণে সংরক্ষিত বনাঞ্চল, পূর্বে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য। কালেঙ্গা রেঞ্জের ৪টি বনবিটের মধ্যে রশিদপুর বিটের অধিকাংশ প্রাকৃতিক গাছ ২০০১-০২ সালের মধ্যে রাজনৈতিক প্রভাবপুষ্ট গাছকাটা দস্যুদের হাতে উজাড় হয়ে যায়। অবশ্য ২০০৬-০৭ অর্থ বছরে এ বিটে সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে গাছ লাগানো হয়েছে। বর্তমানে এ গাছও কাটা হচ্ছে নির্বিচারে। গত ৬ মাসে এ বনের কোটি কোাটি টাকার গাছ পাচার হয়ে গেছে।
উপজেলার সাতছড়ি, তেলমা, রঘুনন্দান বনবিটও চিরহরিৎ সবুজ বন। এসব বিটে রয়েছে নানা প্রজাতির গাছপালা ও বন্যপ্রাণী। উপজেলার কোন বনেই বন্ধ নেই গাছকাটা। কোথাও কম, কোথাও বেশি। গত ১০ বছরে বনকে ঘিরে বিদেশী সাহায্যপুষ্ট নানা প্রকল্প চালু থাকার কারণে বনের প্রতি সাধারণ মানুষের উৎপাত কমে আসলে প্রভাবশালী মহল আর কতিপয় বন কর্মকর্তা কর্মচারীর আতাতে গাছ পাচার থেমে নেই। গাছ কাটার ফলে বণ্যপ্রাণীও চলে যাচ্ছে নানা স্থানে। মারা পড়ছে মানুষের হাতে। এতে বন হচ্ছে ফাকা।
রেমা কালেঙ্গায় কথিত ভিলেজারসহ ভুমি দস্যুরা দখল করে নিয়েছে বনের বিশাল এলাকা। তারা পাহাড় কেটে আবাদ করছে প্রতিনিয়ত। পাহাড় পরিনত হচ্ছে কৃষিজমিতে। পাহাড়ের উত্তর দিকে ক্রমেই গড়ে উঠছে লেবু বাগান। দখলের ফলে বনাঞ্চল হযে যাচ্ছে ব্যক্তিগত বাগান। আবার পাহাড় কেটে বাড়ানো হচ্ছে কৃষিজমি। এতে জীব বৈচিত্র হারাচ্ছে রেমা-কালেঙ্গার বন। ভেঙ্গে পড়েছে বনের খাদ্য শৃঙ্খল। বনের প্রাণীরা প্রায়ই বেরিয়ে চলে যাচ্ছে লোকালয়ে। বনদস্যু আর কথিত রাজনৈতিক নেতা, প্রভাবশালী আর ভিলেজাররা গিলে খাচ্ছে উপজেলার বন। এতে কতিপয় বনকর্মকর্তা ও বনকর্মচারীদের ভুমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ।
রেমা-কালেঙ্গা বনে দেশ স্বাধীনের আরো আগেই বন রক্ষায় ভুমিহীনদের এনে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল। বনকর্মীদের সাথে তারা বন পাহাড়া দিত। কিন্তু কালের বিবর্তনে এ ভিলেজাররাই এখন বনের জন্য হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে। লোভের বশীভুত হয়ে তারাই আজ বন থেকে গাছ কেটে পাচার করে হয়েছে লাখ লাখ টাকার মালিক। তাদের কেউ কেউ হয়েছেন কোটিপতি। বন বিভাগের পাহারায় সহায়তাকারী গ্রামবাসীকে অভয়ারণ্য লাগোয়া সমতলে ফসল বোনার জন্য পরিবার প্রতি এক কেয়ার (৩৬ শতাংশ) করে জায়গা বরাদ্দ করা হয়েছে। সেখানে বর্তমানে ২০৮টি পরিবার রয়েছে। কিন্তু গ্রামবাসী বন বিভাগের অসাধু কর্মচারীদের সহায়তায় বন কেটে এই জমি বাড়িয়েছে। ১০ থেকে ২০ কেয়ার জমির মালিকও এখন আছেন সেখানে।
এ বিষয়ে কালেঙ্গা রেঞ্জের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জানান, প্রভাবশালীদের মদদে এখন বন দখল বাড়ছে। তারা লেবু ও আনারস বাগান করে জমি করছে। আমরা বেশ কয়েকবার উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

হ্যালো, আমি খন্দকার আলাউদ্দিন, আপনাদের চারিপাশের সংবাদ দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করুন।
জনপ্রিয় সংবাদ

২২ দিন অন্ধকারে থাকার পর ব্যারিস্টার সুমনের সহযোগিতায় বিদ্যুৎ সংযোগ পেল ৩৪ টি পরিবার

অবাধে গাছ পাচারে বিলুপ্ত হতে চলেছে চুনারুঘাটের রেমা-কালেঙ্গার চিরহরিৎ সবুজ বন

আপডেট সময় ১২:১৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ মার্চ ২০২২

রেমা কালেঙ্গা থেকে প্রতিদিন অবাধে গাছ কাটা হচ্ছে। পাচার মূূূূ্ল্যবান গাছ। অবয়রাণ্য হারাচ্ছে চিরহরিৎ সবুজ বন। এর সাথে জড়িত রয়েছে বনের অসাধু কর্তকর্তার যোগসাজশ।

গাছ কাটা, বন সম্পদ আহড়ণ, বন কেটে লেবু আনারস বাগান আর বন কেটে কৃষিজমি বৃদ্ধির কারণে ক্রমেই কমে আসছে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের বনের পরিমান। জেলার ১৮ হাজার হেক্টর (প্রায় ৪৫ হাজার একর) বনের মধ্যে চুনারুঘাটেই রযেছে ৭৫ ভাগ বন। উপজেলার ২টি রেঞ্জের ৯টি বনবিটের মধ্যে রেমা, কালেঙ্গা, ছনবাড়ি, সাতছড়ি, তেলমাছড়া ও বঘুনন্দন হচ্ছে শুকনো ও মিশ্র চিরহরিৎ বন। এ বনগুলো জীব ও উদ্ভিদবৈচিত্র্যে দেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ এলাকা। কিন্তু মনুষ্য অত্যাচার আর বন বিভাগের তদারিক ও লোকবলের সংকটের কারণে ্ক্রমেই এসব বনের গাছপালা কমে যাচ্ছে। কমে যাচ্ছে জীববৈচিত্র। বন কেটে তৈরী করা হচ্ছে কৃষিজমি ও বাড়িঘর। গড়ে তোলা হচ্ছে লেবু ও আনারস বাগান। এ অবস্থায় বনের খাদ্য শৃঙ্খল ভেঙে পড়ার পাশাপাশি পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা করা হচ্ছে। চুনারুঘাটে দু বছর ধরে বন দিবসেরও কোন কর্মসূচী পালনও করেনি বনবিভাগ। বন রক্ষায় সাধারণ মানুষের ভুমিকা একেবারেই কম।
উপজেলার দক্ষিন পূর্বাঞ্চলে রয়েছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহৎ প্রাকৃতিক বন রেমা ও কালেঙ্গা বন। জীব ও উদ্ভিদ বৈচিত্রে সমৃদ্ধ ভান্ডার হিসেবে খ্যাত এ বনের সৌন্দর্য্যই আলাদা। শুকনো ও মিশ্র চিরহরিৎ এ বনটিকে সরকার ২০০৫ সালে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ঘোষনা করেছে। বনে ছনবাড়ি, রেমা ও কালেঙ্গায় গেলেই নানা প্রজাতির প্রাণীর দেখা মিলে। এ বনে রয়েছে মহাবিপন্ন উল্লুক, চশমা পড়া হনুমান, রজ্জাবতী বারন, বনরুই ও সজারুসহ বিপন্ন প্রজাতির নানা প্রাণী। আছে আন্তর্জাতিকভাবে বিপন্ন পাখি লালমাথা ট্র্রগন, রাজ ধনেশ, ইমপেরিয়াল পিজিয়ন। বিপন্ন স্থন্যপায়ীদের মধ্যে কাঁকড়াখেকো বেজি, উড়ুক্কু কাঠবিড়ালি, রামকোটা কাঠবিড়ালিও দেখা গেছে এ বনে। দেশের সবচেয়ে বড় বন সুন্দরবনের উদ্ভিদবৈচিত্র মাত্র ৩৩০ প্রজাতিতে সীমাবদ্ধ। এখানকার বানরজাতীয় প্রাণীর বৈচিত্র এ বনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য।
রেমা কালেঙ্গার বনে বহু আগে থেকেই প্রভাবশালী মহলের অত্যাচার চলে আসছে। তারা বন কেটে পরিস্কার করে লেবু বাগান করছে। শ্রীমঙ্গল ও সাতগাও এলাকার প্রভাবশালীরা এসব বাগান করছেন। ইতোমধ্যে প্রায় ৮৪ একর বন দখলে চলে গেছে। মাঝে মাঝে বন বিভাগ অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু প্রভাবশালীদের উচ্ছেদ করা যাচ্ছেনা। ফলে প্রতি বছর কমছে বন আর বাড়ছে লেবু বাগান। অভয়ারণ্যটি ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত। ১৯৯৬ সালে একে সম্প্রসারিত করায় বর্তমান আয়তন ১৭৯৫ হেক্টর। এই অভয়ারণ্যের উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণে সংরক্ষিত বনাঞ্চল, পূর্বে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য। কালেঙ্গা রেঞ্জের ৪টি বনবিটের মধ্যে রশিদপুর বিটের অধিকাংশ প্রাকৃতিক গাছ ২০০১-০২ সালের মধ্যে রাজনৈতিক প্রভাবপুষ্ট গাছকাটা দস্যুদের হাতে উজাড় হয়ে যায়। অবশ্য ২০০৬-০৭ অর্থ বছরে এ বিটে সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে গাছ লাগানো হয়েছে। বর্তমানে এ গাছও কাটা হচ্ছে নির্বিচারে। গত ৬ মাসে এ বনের কোটি কোাটি টাকার গাছ পাচার হয়ে গেছে।
উপজেলার সাতছড়ি, তেলমা, রঘুনন্দান বনবিটও চিরহরিৎ সবুজ বন। এসব বিটে রয়েছে নানা প্রজাতির গাছপালা ও বন্যপ্রাণী। উপজেলার কোন বনেই বন্ধ নেই গাছকাটা। কোথাও কম, কোথাও বেশি। গত ১০ বছরে বনকে ঘিরে বিদেশী সাহায্যপুষ্ট নানা প্রকল্প চালু থাকার কারণে বনের প্রতি সাধারণ মানুষের উৎপাত কমে আসলে প্রভাবশালী মহল আর কতিপয় বন কর্মকর্তা কর্মচারীর আতাতে গাছ পাচার থেমে নেই। গাছ কাটার ফলে বণ্যপ্রাণীও চলে যাচ্ছে নানা স্থানে। মারা পড়ছে মানুষের হাতে। এতে বন হচ্ছে ফাকা।
রেমা কালেঙ্গায় কথিত ভিলেজারসহ ভুমি দস্যুরা দখল করে নিয়েছে বনের বিশাল এলাকা। তারা পাহাড় কেটে আবাদ করছে প্রতিনিয়ত। পাহাড় পরিনত হচ্ছে কৃষিজমিতে। পাহাড়ের উত্তর দিকে ক্রমেই গড়ে উঠছে লেবু বাগান। দখলের ফলে বনাঞ্চল হযে যাচ্ছে ব্যক্তিগত বাগান। আবার পাহাড় কেটে বাড়ানো হচ্ছে কৃষিজমি। এতে জীব বৈচিত্র হারাচ্ছে রেমা-কালেঙ্গার বন। ভেঙ্গে পড়েছে বনের খাদ্য শৃঙ্খল। বনের প্রাণীরা প্রায়ই বেরিয়ে চলে যাচ্ছে লোকালয়ে। বনদস্যু আর কথিত রাজনৈতিক নেতা, প্রভাবশালী আর ভিলেজাররা গিলে খাচ্ছে উপজেলার বন। এতে কতিপয় বনকর্মকর্তা ও বনকর্মচারীদের ভুমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ।
রেমা-কালেঙ্গা বনে দেশ স্বাধীনের আরো আগেই বন রক্ষায় ভুমিহীনদের এনে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল। বনকর্মীদের সাথে তারা বন পাহাড়া দিত। কিন্তু কালের বিবর্তনে এ ভিলেজাররাই এখন বনের জন্য হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে। লোভের বশীভুত হয়ে তারাই আজ বন থেকে গাছ কেটে পাচার করে হয়েছে লাখ লাখ টাকার মালিক। তাদের কেউ কেউ হয়েছেন কোটিপতি। বন বিভাগের পাহারায় সহায়তাকারী গ্রামবাসীকে অভয়ারণ্য লাগোয়া সমতলে ফসল বোনার জন্য পরিবার প্রতি এক কেয়ার (৩৬ শতাংশ) করে জায়গা বরাদ্দ করা হয়েছে। সেখানে বর্তমানে ২০৮টি পরিবার রয়েছে। কিন্তু গ্রামবাসী বন বিভাগের অসাধু কর্মচারীদের সহায়তায় বন কেটে এই জমি বাড়িয়েছে। ১০ থেকে ২০ কেয়ার জমির মালিকও এখন আছেন সেখানে।
এ বিষয়ে কালেঙ্গা রেঞ্জের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জানান, প্রভাবশালীদের মদদে এখন বন দখল বাড়ছে। তারা লেবু ও আনারস বাগান করে জমি করছে। আমরা বেশ কয়েকবার উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছি।