হবিগঞ্জ ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চুনারুঘাটে অবৈধ বালু উত্তোলনে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, টমটম আটক Logo চুনারুঘাটের নোংরা পরিবেশে বেকারি পণ্য উৎপাদন, ২০ হাজার টাকা জরিমানা Logo চুনারুঘাটে মাদকসেবীর ৬ মাসের কারাদণ্ড Logo চুনারুঘাটে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রী সহ ৫ জন কে কুপিয়ে আহত Logo চুনারুঘাটের সারগাম পাল রাজ্য এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে Logo মাধবপুরে কৃষকের জমি দখলের অভিযোগ চা বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে Logo চুনারুঘাটে রাতে উড়ছে জাতীয় পতাকা, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবহেলার অভিযোগ Logo চুনারুঘাটের সাতছড়ি বনে পদ্ম গোখরা ও দাঁড়াশ সাপ অবমুক্ত Logo চুনারুঘাটে সাতছড়ি সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৮ গরু, ১০ কেজি গাঁজা ও বিপুল ইয়াবা উদ্ধার Logo চুনারুঘাট পৌর শহরে মাদক নির্মূল ও চুরি প্রতিরোধে মতবিনিময়

মাধবপুরে মাদকের ছড়াছড়ি, হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা

মাধবপুরে হাত বাড়ালেই মিলছে মরণ নেশা মাদক। ইয়াবা, ফেনসিডিল কিংবা গাঁজা সেবনের জন্য খুব বেশি খুঁজতে হয়না মাদকসেবিদের। সবাই জানে কোথায় পাওয়া যায় কোন মাদক।

অনুসন্ধানে মিলেছে এমন বেশ কয়েকটি মাদকের খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রের। এসব স্পটে অনেকটা প্রকাশ্যেই মাদকের বেচাকেনা ও সেবনের ব্যবস্থা আছে। প্রতিটি স্পটের নিরাপত্তার জন্য আছে স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু লোক ও দালাল।

দালাল’রা চেহারা দেখেই বুঝতে পারে কে মাদকসেবী। এসব স্পটের বেশির ভাগ ক্রেতাই পরিচিত।অপরিচিত কেউ যেতে চাইলে পরিচিত কোন মাদকসেবিকে সাথে নিয়ে যেতে হয়।

তাই মাদকসেবি ছাড়া অন্য কেউ এসব স্পটে প্রবেশের সুযোগ পায় না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় লোকজন জানান, স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজন থেকে শুরু করে এসব দেখার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করেই চলছে মাদকের সবগুলো খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র।

এসব খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র বেশিরভাগই সীমান্তবর্তী এলাকায়। সরেজমিনে উপজেলার মাধবপুর পৌরসভা, বাঘাসুরা, শাহজাহানপুর, চৌমুহনী ও ধর্মঘর ইউনিয়নে ঘুরে দেখা যায়, মাধবপুর পৌরসভার সেমকো সিএনজি পাম্পের নিকট মাদক সম্রাট আলী আকবর এর বাড়িতে ইয়াবা ট্যাবলেট ও ফেনসিডিল বিক্রয় হয়।

আলী আকবর এর রয়েছে মাদক বিক্রির বিশাল নেটওয়ার্ক। বাঘাসুরা ইউনিয়নের শাহ্ সুলেমান ফতেহ গাজী মাজারের আশপাশে কয়েকটি স্পটে গাঁজা বিক্রি হয়। এখানে রঘুনন্দন পাহাড়ের উপরে নিয়মিত বসে গাঁজার আসর।

তেলিয়াপাড়া চা বাগানে স্মৃতিসৌধের কাছে চন্দ্র পান তাঁতির বাড়িতে অনেকটা প্রকাশ্যে ফেনসিডিল ও ইয়াবা বিক্রি হচ্ছে। তার বাড়িতে বসেই মাদকসেবিরা সেবন করে এসব মাদক।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন বাগানে প্রবেশের সাথে সাথেই খবর পৌঁছে যায় তার কাছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ কেউ তার নিকট থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেয় বলে স্থানীয় লোকজন জানায়।

বিনিময়ে অভিযানের আগেই খবর পৌঁছে যায় তার কাছে। এখানে প্রতিদিন ১৫০/২০০ বোতল ফেনসিডিল বিক্রি হয় বলে জানা যায়।

তেলিয়াপাড়া চা বাগানে এছাড়াও আরও দুটি মাদকের খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র আছে। ধর্মঘর ইউনিয়নের আলী শাহ মাজারের কাছে রুবেল মিয়া ও জেবু মিয়ার বাড়িতে এবং সস্তামুরা গ্রামের আলাউদ্দীন এর বাড়িতে ফেনসিডিল ও ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রয় হয়।

চৌমুহনী ইউনিয়নের আরিচপুর গ্রামের মানিক মিয়ার বাড়িতে ফেনসিডিল ও ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রয় হয়। এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক কাজী হাবিবুর রহমান বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।

আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সায়েদুল হাসান পরে কথা বলবো বলে ফোন কেটে দেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

হ্যালো, আমি খন্দকার আলাউদ্দিন, আপনাদের চার পাশের সংবাদ দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করুন।
জনপ্রিয় সংবাদ

চুনারুঘাটে অবৈধ বালু উত্তোলনে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, টমটম আটক

মাধবপুরে মাদকের ছড়াছড়ি, হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা

আপডেট সময় ১১:১৭:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অগাস্ট ২০২৪

মাধবপুরে হাত বাড়ালেই মিলছে মরণ নেশা মাদক। ইয়াবা, ফেনসিডিল কিংবা গাঁজা সেবনের জন্য খুব বেশি খুঁজতে হয়না মাদকসেবিদের। সবাই জানে কোথায় পাওয়া যায় কোন মাদক।

অনুসন্ধানে মিলেছে এমন বেশ কয়েকটি মাদকের খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রের। এসব স্পটে অনেকটা প্রকাশ্যেই মাদকের বেচাকেনা ও সেবনের ব্যবস্থা আছে। প্রতিটি স্পটের নিরাপত্তার জন্য আছে স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু লোক ও দালাল।

দালাল’রা চেহারা দেখেই বুঝতে পারে কে মাদকসেবী। এসব স্পটের বেশির ভাগ ক্রেতাই পরিচিত।অপরিচিত কেউ যেতে চাইলে পরিচিত কোন মাদকসেবিকে সাথে নিয়ে যেতে হয়।

তাই মাদকসেবি ছাড়া অন্য কেউ এসব স্পটে প্রবেশের সুযোগ পায় না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় লোকজন জানান, স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজন থেকে শুরু করে এসব দেখার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করেই চলছে মাদকের সবগুলো খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র।

এসব খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র বেশিরভাগই সীমান্তবর্তী এলাকায়। সরেজমিনে উপজেলার মাধবপুর পৌরসভা, বাঘাসুরা, শাহজাহানপুর, চৌমুহনী ও ধর্মঘর ইউনিয়নে ঘুরে দেখা যায়, মাধবপুর পৌরসভার সেমকো সিএনজি পাম্পের নিকট মাদক সম্রাট আলী আকবর এর বাড়িতে ইয়াবা ট্যাবলেট ও ফেনসিডিল বিক্রয় হয়।

আলী আকবর এর রয়েছে মাদক বিক্রির বিশাল নেটওয়ার্ক। বাঘাসুরা ইউনিয়নের শাহ্ সুলেমান ফতেহ গাজী মাজারের আশপাশে কয়েকটি স্পটে গাঁজা বিক্রি হয়। এখানে রঘুনন্দন পাহাড়ের উপরে নিয়মিত বসে গাঁজার আসর।

তেলিয়াপাড়া চা বাগানে স্মৃতিসৌধের কাছে চন্দ্র পান তাঁতির বাড়িতে অনেকটা প্রকাশ্যে ফেনসিডিল ও ইয়াবা বিক্রি হচ্ছে। তার বাড়িতে বসেই মাদকসেবিরা সেবন করে এসব মাদক।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন বাগানে প্রবেশের সাথে সাথেই খবর পৌঁছে যায় তার কাছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ কেউ তার নিকট থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেয় বলে স্থানীয় লোকজন জানায়।

বিনিময়ে অভিযানের আগেই খবর পৌঁছে যায় তার কাছে। এখানে প্রতিদিন ১৫০/২০০ বোতল ফেনসিডিল বিক্রি হয় বলে জানা যায়।

তেলিয়াপাড়া চা বাগানে এছাড়াও আরও দুটি মাদকের খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র আছে। ধর্মঘর ইউনিয়নের আলী শাহ মাজারের কাছে রুবেল মিয়া ও জেবু মিয়ার বাড়িতে এবং সস্তামুরা গ্রামের আলাউদ্দীন এর বাড়িতে ফেনসিডিল ও ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রয় হয়।

চৌমুহনী ইউনিয়নের আরিচপুর গ্রামের মানিক মিয়ার বাড়িতে ফেনসিডিল ও ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রয় হয়। এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক কাজী হাবিবুর রহমান বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।

আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সায়েদুল হাসান পরে কথা বলবো বলে ফোন কেটে দেন।