হবিগঞ্জ ০৪:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo হবিগঞ্জে সেরা গুণী শিক্ষক জহুর চান বিবি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আল মামুন Logo হবিগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক আহমেদ আলী মুকিবকে রাজসিক সংবর্ধনা দিলেন সৈয়দ মুশফিক আহমেদ Logo চুনারুঘাটে অবৈধ মাটি কাটায় এক্সক্যাভেটর ভাঙচুর, তেল বিক্রেতাকে জরিমানা Logo কুলাউড়ায় কলেজ পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মাজহারুল ইসলাম কুলাউড়া Logo চুনারুঘাটে চা শ্রমিকদের রেইনকোট, হতদরিদ্রদের ঢেউটিন ও শিক্ষার্থীদের হুইলচেয়ার দিলেন এমপি Logo চুনারুঘাটে দেড় কেজি গাঁজাসহ আটক, পুলিশ আসার আগেই পালালেন যুবক Logo চুনারুঘাটের হাজী আলিম উল্লাহ সিনিয়র আলিম মাদ্রাসায় এডহক কমিটি সভাপতি হলেন সাজিদ Logo শায়েস্তাগঞ্জে নাটকের মৌলিক বিষয়ে তিন দিনব্যাপী নাট্য কর্মশালা Logo চুনারুঘাটের রাজার বাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা Logo শিক্ষার্থীদের পরিবহন সুবিধায় হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস সেবা চালু

চুনারুঘাটে ট্রাকের ধাক্কায় ছিটকে পড়ে মোটরসাইকেল আরোহী পর্যটকের মৃত্যু

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের চন্ডিতে বালুবোঝাই ট্রাক চাপায় সজল মিয়া (৩৫) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।

নিহত সজল হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার কাসেমপুর গ্রামের আব্দুল ছিদ্দিক মিয়ার ছেলে। আজ শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার সাতছড়ি সড়কের চন্ডি মাজারের অদূরে আঞ্চলিক মহাসড়কে জামটিলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টার দিকে লাখাই থেকে সজল ও তার ৫ বন্ধু সাতছড়ি ঘুরতে আসেন। সেখানে খাওয়াদাওয়া শেষে দুপুরে তার চাচাতো ভাই রুবেলের মোটরসাইকেল যোগে চুনারুঘাট বাজারের দিকে যাচ্ছিলো।

যাত্রা পথে মোটরসাইলেটি ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের চন্ডি মাজারের অদূরে জামটিলা এলাকায় পৌঁছলে একটি বালুবোঝাই ট্রাক তাদের মোটরসাইকেলকে সামন থেকে ধাক্কা দেয়।

এতে সজল মিয়া সড়কে ছিটকে পড়লে ট্রাকটি তাকে চাপা দিলে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায় দেহ। তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বিকেল ৩টায় মৃত ঘোষণা দেন।

এদিকে ঘটনার পরপরই ঘাতক ট্রাক চালক পালিয়ে যায়। চুনারুঘাট থানার ওসি নুর আলম বলেন, ঘাতক ট্রাকটি থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে চালক পলাতক রয়েছে।

লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সচেতন উপজেলাবাসীর অভিযোগ, দিনরাত সাতছড়ি সড়কে দশ চাকার ভারী ট্রাক দাপিয়ে চললেও বেপরোয়া এসব বালুর ট্রাক নিয়ন্ত্রণে কারও ভূমিকা দেখা যায় না। পৌরবাসি বেপরোয়া বালু ট্রাক বন্ধের দাবিতে ইতিপূর্বে আন্দোলন করলেও ফল আসেনি।

জানা গেছে, চুনারুঘাট উপজেলা খোয়াই নদীর বিভিন্ন বালুমহাল থেকে প্রতিনিয়ত উত্তোলন করা হচ্ছে লাখ লাখ টন বালু। উপজেলার বিভিন্ন ডিপো থেকে প্রতিদিন অন্তত শতাধিক ট্রাক করে বালু যাচ্ছে ওই সড়ক দিয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে।

নিহত সজলের চাচাতো ভাই রুবেল মিয়া বলেন, আমরা ৫ জন আজকে সাতছড়ি আনন্দ ভ্রমণে ছিলাম। ভ্রমণ শেষে আমরা বাড়ি ফেরার পথে বালুবাহী ট্রাক বেপরোয়া গতিতে ধাক্কা দিলে আমার ভাই গুরুতর আহত হয়।

আমরা ওই চালকের বিচার চাই বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। স্থানীয় পথচারী কাওছার মিয়া জানান, চুনারুঘাট বাসীর আতঙ্কের নাম ১০ চাকার ডাম্পার বালুবাহী ট্রাক।

সাতছড়ি সড়কে প্রতিদিন আইন অমান্য করে ওভার লোড নিয়ে শহরে বা গ্রামে বেপরোয়া গতিতে দিনরাত প্রায় শতাধিক বালুবাহী ট্রাক দাঁপিয়ে বেরাচ্ছে।

ফলে এলাকাবাসীসহ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন পরিবহন চালক, যাত্রী ও পথচারীরা। প্রাণ হারাচ্ছে শিশু থেকে বয়স্করা। তবুও প্রশাসন নিরব।

এসব যানের চাকার আঘাতে ক্ষত বিক্ষত হয়ে পড়েছে এজেলা উপজেলার বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়ক। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়ক এখন ভেঙেচুরে একাকার।

দণ্ডবিধিতে কোনো সরকারি সম্পদের ক্ষতি করলে এর শাস্তি বিধান রয়েছে কিন্তু বাস্তবে এর এর কিছুই হচ্ছেনা ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

আপনাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, অনিয়ম, দুর্নীতি, অপরাধ, জনদুর্ভোগ, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও সম্ভাবনার সংবাদ আমাদের জানান।
জনপ্রিয় সংবাদ

হবিগঞ্জে সেরা গুণী শিক্ষক জহুর চান বিবি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আল মামুন

চুনারুঘাটে ট্রাকের ধাক্কায় ছিটকে পড়ে মোটরসাইকেল আরোহী পর্যটকের মৃত্যু

আপডেট সময় ০৬:৩৬:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৪

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের চন্ডিতে বালুবোঝাই ট্রাক চাপায় সজল মিয়া (৩৫) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।

নিহত সজল হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার কাসেমপুর গ্রামের আব্দুল ছিদ্দিক মিয়ার ছেলে। আজ শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার সাতছড়ি সড়কের চন্ডি মাজারের অদূরে আঞ্চলিক মহাসড়কে জামটিলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টার দিকে লাখাই থেকে সজল ও তার ৫ বন্ধু সাতছড়ি ঘুরতে আসেন। সেখানে খাওয়াদাওয়া শেষে দুপুরে তার চাচাতো ভাই রুবেলের মোটরসাইকেল যোগে চুনারুঘাট বাজারের দিকে যাচ্ছিলো।

যাত্রা পথে মোটরসাইলেটি ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের চন্ডি মাজারের অদূরে জামটিলা এলাকায় পৌঁছলে একটি বালুবোঝাই ট্রাক তাদের মোটরসাইকেলকে সামন থেকে ধাক্কা দেয়।

এতে সজল মিয়া সড়কে ছিটকে পড়লে ট্রাকটি তাকে চাপা দিলে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায় দেহ। তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বিকেল ৩টায় মৃত ঘোষণা দেন।

এদিকে ঘটনার পরপরই ঘাতক ট্রাক চালক পালিয়ে যায়। চুনারুঘাট থানার ওসি নুর আলম বলেন, ঘাতক ট্রাকটি থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে চালক পলাতক রয়েছে।

লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সচেতন উপজেলাবাসীর অভিযোগ, দিনরাত সাতছড়ি সড়কে দশ চাকার ভারী ট্রাক দাপিয়ে চললেও বেপরোয়া এসব বালুর ট্রাক নিয়ন্ত্রণে কারও ভূমিকা দেখা যায় না। পৌরবাসি বেপরোয়া বালু ট্রাক বন্ধের দাবিতে ইতিপূর্বে আন্দোলন করলেও ফল আসেনি।

জানা গেছে, চুনারুঘাট উপজেলা খোয়াই নদীর বিভিন্ন বালুমহাল থেকে প্রতিনিয়ত উত্তোলন করা হচ্ছে লাখ লাখ টন বালু। উপজেলার বিভিন্ন ডিপো থেকে প্রতিদিন অন্তত শতাধিক ট্রাক করে বালু যাচ্ছে ওই সড়ক দিয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে।

নিহত সজলের চাচাতো ভাই রুবেল মিয়া বলেন, আমরা ৫ জন আজকে সাতছড়ি আনন্দ ভ্রমণে ছিলাম। ভ্রমণ শেষে আমরা বাড়ি ফেরার পথে বালুবাহী ট্রাক বেপরোয়া গতিতে ধাক্কা দিলে আমার ভাই গুরুতর আহত হয়।

আমরা ওই চালকের বিচার চাই বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। স্থানীয় পথচারী কাওছার মিয়া জানান, চুনারুঘাট বাসীর আতঙ্কের নাম ১০ চাকার ডাম্পার বালুবাহী ট্রাক।

সাতছড়ি সড়কে প্রতিদিন আইন অমান্য করে ওভার লোড নিয়ে শহরে বা গ্রামে বেপরোয়া গতিতে দিনরাত প্রায় শতাধিক বালুবাহী ট্রাক দাঁপিয়ে বেরাচ্ছে।

ফলে এলাকাবাসীসহ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন পরিবহন চালক, যাত্রী ও পথচারীরা। প্রাণ হারাচ্ছে শিশু থেকে বয়স্করা। তবুও প্রশাসন নিরব।

এসব যানের চাকার আঘাতে ক্ষত বিক্ষত হয়ে পড়েছে এজেলা উপজেলার বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়ক। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়ক এখন ভেঙেচুরে একাকার।

দণ্ডবিধিতে কোনো সরকারি সম্পদের ক্ষতি করলে এর শাস্তি বিধান রয়েছে কিন্তু বাস্তবে এর এর কিছুই হচ্ছেনা ।