হবিগঞ্জ ০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo হবিগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক আহমেদ আলী মুকিবকে রাজসিক সংবর্ধনা দিলেন সৈয়দ মুশফিক আহমেদ Logo চুনারুঘাটে অবৈধ মাটি কাটায় এক্সক্যাভেটর ভাঙচুর, তেল বিক্রেতাকে জরিমানা Logo কুলাউড়ায় কলেজ পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মাজহারুল ইসলাম কুলাউড়া Logo চুনারুঘাটে চা শ্রমিকদের রেইনকোট, হতদরিদ্রদের ঢেউটিন ও শিক্ষার্থীদের হুইলচেয়ার দিলেন এমপি Logo চুনারুঘাটে দেড় কেজি গাঁজাসহ আটক, পুলিশ আসার আগেই পালালেন যুবক Logo চুনারুঘাটের হাজী আলিম উল্লাহ সিনিয়র আলিম মাদ্রাসায় এডহক কমিটি সভাপতি হলেন সাজিদ Logo শায়েস্তাগঞ্জে নাটকের মৌলিক বিষয়ে তিন দিনব্যাপী নাট্য কর্মশালা Logo চুনারুঘাটের রাজার বাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা Logo শিক্ষার্থীদের পরিবহন সুবিধায় হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস সেবা চালু Logo হুইলচেয়ারেই কাটে প্রধান শিক্ষক কল্যাণ কুমার দেবের জীবন

একটি ঘরের আকুতি বিধবা জবেদার

  • এরশাদ আলীঃ
  • আপডেট সময় ০৩:৫৬:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৩
  • ২৯৬ বার পড়া হয়েছে

বিশ বছর আগে বিধবা হয়ে যাওয়া জবেদা খাতুনের বয়স এখন ৫৮। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে নিভে যাচ্ছে তার চলাফেরার শক্তি।শরীরে বাসা বেঁধেছে নানা রোগ।বয়সের ভারে হাঁটাচলা তার পক্ষে কষ্টকর।বয়স্ক ভাতা কিংবা বিধবা ভাতা তার ভাগ্যে জুটেনি,জুটেনি আশ্রায়নেও ঠাঁই।

দুমুঠো অন্নের জন্য তাকিয়ে থাকতে হয় সমাজের মানবিক মানুষের দিকে। নেই মাথাগোঁজার ঠাঁইটুকুও।বৃদ্ধা জবেদা খাতুনের বাড়ি হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বহরা ইউনিয়নের হবিবপুর গ্রামে।

সেখানে তার ভিটেবাড়ি বলতে কিছুই নেই। বসবাস করছেন অন্যের জায়গায় তাও আবার, দুর্বিষহ অবস্থা। তবুও নিরুপায় হয়ে সেখাইনেই বাস করতে বাধ্য হচ্ছেন তিনি।নিকটাত্মীয় বলতে একছেলে ও এক মেয়ে ছাড়া কেউই নেই তার।মেয়ে বিয়ে হয়ে স্বামীর ঘরে আর ছেলে করেন দিনমজুরের কাজ।এভাবেই কষ্টে দিন পার করছেন ভূমিহীন বৃদ্ধা জবেদা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হবিবপুর গ্রামে ১ সন্তান নিয়ে অন্যের আশ্রয়ে দেওয়া ছোট একটি মাটির ঘরে বাস করছেন তিনি। সেখানে এলোমেলো পুরনো কাপড়-চোপড়। এককোণে চুলা, আর চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হাড়ি-পাতিল।

এসব নিয়েই তার সংসার। কষ্টের জীবনের কথা জানতে চাইলে অশ্রুভেজা চোখে জবেদা বলেন, ‘বাবারে খুব কষ্ট করি।অন্যের জায়গায় একট মাটির ঘরে থাকি, শীতের রাইত আইলে (রাতে) বাতাসে গাও (শরীর), আত (হাঁত) ও পাও ঠান্ডা ওইয়া যায়। থড়থড় কইর‌্যা কাঁপি।

অসুখ-বিসুখ লইয়া কষ্টে আছি। টেকার অভাবে ওষুধ (ঔষধ) ও কিনতে পারি না। হুনছি (শুনছি) সরকার নাকি আমার মত অসহায় মানুষ রে ঘর দেয়,একটা সরকারি ঘর যদি পাইতাম হেই ঘরে শান্তিতে থাকতে পারতাম।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃদ্ধা জবেদা খাতুনের বিয়ে হয়েছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার ফান্দাউক গ্রামে।

২০ বছর আগে
স্বামী মারা যাওয়ার পর জাবেদা খাতুন চলে এসেছিলেন বাবার বাড়ি হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার হবিবপুর গ্রামে। সেখানে বোন জামাই এর আশ্রয়ে ছিলেন তিনি,বেশ কিছুদিন আগে সেই বোন জামাইটাও মারা যায়।

কিন্তু নানা কারণে এখন আর ঠাঁই হচ্ছে না সেখানে।বৃদ্ধা জবেদা খাতুনের ঘরের বিষয়ে জানতে চাইলে বহরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন জানান, ‘আসলে বিষয়টি আমার জানা নেই,আপনার কাছে গেছে নাকি।আমার কাছে কখনো কোনো আবেদনও করেননি।ভবিষ্যতে যদি কোনো সুযোগ আসে তখন তার জন্য কিছু করতে চেষ্টা করবো।

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনজুর আহ্সান জানান,’বিষয়টি আমার জানা নেই।।তিনি যদি আবেদন করেন তবে তার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবো এবং তাকে পূর্ণবাসনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগীতা করবো।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

খন্দকার আলাউদ্দিন

আপনাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, অনিয়ম, দুর্নীতি, অপরাধ, জনদুর্ভোগ, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও সম্ভাবনার সংবাদ আমাদের জানান।
জনপ্রিয় সংবাদ

হবিগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক আহমেদ আলী মুকিবকে রাজসিক সংবর্ধনা দিলেন সৈয়দ মুশফিক আহমেদ

একটি ঘরের আকুতি বিধবা জবেদার

আপডেট সময় ০৩:৫৬:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৩

বিশ বছর আগে বিধবা হয়ে যাওয়া জবেদা খাতুনের বয়স এখন ৫৮। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে নিভে যাচ্ছে তার চলাফেরার শক্তি।শরীরে বাসা বেঁধেছে নানা রোগ।বয়সের ভারে হাঁটাচলা তার পক্ষে কষ্টকর।বয়স্ক ভাতা কিংবা বিধবা ভাতা তার ভাগ্যে জুটেনি,জুটেনি আশ্রায়নেও ঠাঁই।

দুমুঠো অন্নের জন্য তাকিয়ে থাকতে হয় সমাজের মানবিক মানুষের দিকে। নেই মাথাগোঁজার ঠাঁইটুকুও।বৃদ্ধা জবেদা খাতুনের বাড়ি হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বহরা ইউনিয়নের হবিবপুর গ্রামে।

সেখানে তার ভিটেবাড়ি বলতে কিছুই নেই। বসবাস করছেন অন্যের জায়গায় তাও আবার, দুর্বিষহ অবস্থা। তবুও নিরুপায় হয়ে সেখাইনেই বাস করতে বাধ্য হচ্ছেন তিনি।নিকটাত্মীয় বলতে একছেলে ও এক মেয়ে ছাড়া কেউই নেই তার।মেয়ে বিয়ে হয়ে স্বামীর ঘরে আর ছেলে করেন দিনমজুরের কাজ।এভাবেই কষ্টে দিন পার করছেন ভূমিহীন বৃদ্ধা জবেদা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হবিবপুর গ্রামে ১ সন্তান নিয়ে অন্যের আশ্রয়ে দেওয়া ছোট একটি মাটির ঘরে বাস করছেন তিনি। সেখানে এলোমেলো পুরনো কাপড়-চোপড়। এককোণে চুলা, আর চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হাড়ি-পাতিল।

এসব নিয়েই তার সংসার। কষ্টের জীবনের কথা জানতে চাইলে অশ্রুভেজা চোখে জবেদা বলেন, ‘বাবারে খুব কষ্ট করি।অন্যের জায়গায় একট মাটির ঘরে থাকি, শীতের রাইত আইলে (রাতে) বাতাসে গাও (শরীর), আত (হাঁত) ও পাও ঠান্ডা ওইয়া যায়। থড়থড় কইর‌্যা কাঁপি।

অসুখ-বিসুখ লইয়া কষ্টে আছি। টেকার অভাবে ওষুধ (ঔষধ) ও কিনতে পারি না। হুনছি (শুনছি) সরকার নাকি আমার মত অসহায় মানুষ রে ঘর দেয়,একটা সরকারি ঘর যদি পাইতাম হেই ঘরে শান্তিতে থাকতে পারতাম।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃদ্ধা জবেদা খাতুনের বিয়ে হয়েছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার ফান্দাউক গ্রামে।

২০ বছর আগে
স্বামী মারা যাওয়ার পর জাবেদা খাতুন চলে এসেছিলেন বাবার বাড়ি হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার হবিবপুর গ্রামে। সেখানে বোন জামাই এর আশ্রয়ে ছিলেন তিনি,বেশ কিছুদিন আগে সেই বোন জামাইটাও মারা যায়।

কিন্তু নানা কারণে এখন আর ঠাঁই হচ্ছে না সেখানে।বৃদ্ধা জবেদা খাতুনের ঘরের বিষয়ে জানতে চাইলে বহরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন জানান, ‘আসলে বিষয়টি আমার জানা নেই,আপনার কাছে গেছে নাকি।আমার কাছে কখনো কোনো আবেদনও করেননি।ভবিষ্যতে যদি কোনো সুযোগ আসে তখন তার জন্য কিছু করতে চেষ্টা করবো।

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনজুর আহ্সান জানান,’বিষয়টি আমার জানা নেই।।তিনি যদি আবেদন করেন তবে তার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবো এবং তাকে পূর্ণবাসনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগীতা করবো।